What is Diabetes? Symptoms of Diabetes

Published Date: Monday, June 1, 2020
What is Diabetes Symptoms of Diabetes

 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মতে, Diabetes is a chronic, metabolic disease characterized by elevated levels of blood glucose (or blood sugar), which leads over time to serious damage to the heart, blood vessels, eyes, kidneys, and nerves.

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ডায়াবেটিস এখন একটি মহামারি রোগ হিসেবে ধারন করেছে। ডায়াবেটিস শব্দটি আমাদের সবার কাছেই কম বেশি পরিচিত। বর্তমানে এমন কোনো পরিবার খুঁজে পাওয়া যাবে না, যেখানে কোনো ডায়াবেটিসের রোগী নেই, দিন দিন বেড়ে চলছে এই রোগ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, ডায়াবেটিস মহামারি রোগে রুপান্তর হয়েছে। এই রোগের সংখা অত্যধিক বিস্তারের কারণেই সম্প্রতি এমন ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)। বিশ্বে বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশ প্রায় ৪২২ মিলিয়ন মানুষ এই রোগে আক্রান্ত।

এখন সবার মনে প্রশ্ন আসতেই পারে, ডায়াবেটিস কী? আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশন (ADA)বলছে, ডায়াবেটিস এমনই একটি রোগ, যা কখনো সম্পূর্ণভাবে সারে না। কিন্তু এই রোগকে সহজেই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়, যদি নিয়ম মেনে চলা যায়।

আইরিশ ইনডিপেনডেন্টের সংবাদে বলা হয়েছে, যখন আমরা কার্বোহাইড্রেট বা সাধারণ শর্করাজাতীয় খাবার গ্রহন করি, তখন তা ভেঙে শরীরে গ্লুকোজে পরিণত হয়। ইনসুলিন হচ্ছে একপ্রকার হরমোন। এর কাজ হলো এই গ্লুকোজকে মানুষের দেহের কোষগুলোয় পৌছে দেওয়া। তারপর সেই গ্লুকোজ ব্যবহার করে শরীরের কোষগুলো শক্তি উৎপাদন করে। সেই শক্তি দিয়েই আমরা দৈনন্দিন কাজকর্ম করে থাকি। সুতরাং যখন এই গ্লুকোজ শরীরের কোষে সঠিকভাবে পৌঁছাবে না, তখন স্বাভাবিকভাবেই মানুষের দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হবে এবং সমস্যা দেখা যাবে।

যখন কোন মানুষের ডায়াবেটিস হয়, তখন ওই মানুষের দেহে ইনসুলিন হরমোনের নিঃসরণ কমতে থাকে। ফলে দেহের কোষে গ্লুকোজ পৌঁছাতে পারে না। এতে করে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে থাকে। সাধারণত প্রস্রাবের মাধ্যমে অতিরিক্ত গ্লুকোজ শরীর থেকে বের হয়ে যায়। এই কারণে ডায়াবেটিস রোগীর ঘন ঘন প্রস্রাব হয়। যখন প্রস্রাব বেশি হয়, তখন ডায়াবেটিসে ভোগা রোগী পানির খাওয়ার জন্য ছটপট করেন।

তাছাড়া, ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়ার কারনে রোগীর দেহ থেকে প্রচুর গ্লুকোজ বের হয়ে যায়। যার কারনে প্রয়োজনীয় শক্তি উৎপাদন করতে পারে না দেহের কোষগুলো। ফলে রোগী দুর্বলতা অনুভব করতে থাকে। রোগী যদি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সঠিক কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করে, তবে তার রক্তনালি, স্নায়ু, কিডনি, চোখ ও হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যাসহ নানা ধরনের শারীরিক জটিলতা ও সমস্যা দেখা দিতে পারে।

ডায়াবেটিসের লক্ষণ

ডায়াবেটিস রোগের সাধারণ কিছু লক্ষণ রয়েছে। আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশনের (ADA) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কিছু বিষয়ে খেয়াল রাখলে খুব সহজেই চিহ্নিত করা যায় ডায়াবেটিস। আর যত আগে ডায়াবেটিস চিহ্নিত করা যাবে, তখনই নিতে হবে নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ। ডায়াবেটিসের লক্ষণগুলো হলো:

১. ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া

২. পানির পিপাসা পাওয়া

৩. নিয়মিত খাওয়ার পরও ঘন ঘন খিদে

৪. প্রচণ্ড পরিশ্রান্ত ও ক্লান্ত অনুভব করা

৫. চোখে হালকা ঝাপসা দেখা

৬. শরীরের বিভিন্ন অংশের কাটাছেঁড়া সহজে ভালো না হওয়া

৭. খাওয়া সত্ত্বেও ওজন দিন দিন কমে যাওয়া

৮. হাতে-পায়ে ব্যথা বা মাঝে মাঝে অবশ হয়ে যাওয়া

অন্যান্য নির্দিষ্ট কারণভিত্তিক শ্রেণী

ক. জেনেটিক কারণে ইনসুলিন তৈরি কম হওয়া।

খ. জেনেটিক কারণে ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমে যাওয়া।

গ. অগ্ন্যাশয়ের বিভিন্ন রোগ

ঘ. অন্যান্য হরমোন-এর আধিক্য

ঙ. ওষুধ ও রাসায়নিক দ্রব্যের সংস্পর্শ।

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার কারণসমূহ

যে কেউ যে কোনো বয়সে যেকোনো সময় ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হতে পারেন। তবে নিম্নোক্ত শ্রেণীর ব্যক্তিদের মধ্যে ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে:

ক. যাদের বংশে বিশেষ করে বাবা-মা বা রক্ত সম্পর্কে নিকটাত্মীয়ের ডায়াবেটিস আছে।

খ. যাদের শরীরের ওজন অনেক বেশি ও যারা ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রমের কোনো কাজ করেন না।

গ. যারা বহুদিন ধরে কর্টিসোল জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করেন।

ঘ. যেসব মহিলার গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস ছিল আবার যেসব মহিলা ৯ পাউন্ডের বেশি ওজনের বাচ্চা জন্মদান করেছেন।

ঙ. যাদের রক্তচাপ আছে এবং রক্তে কোলেস্টেরল পরিমান বেশি থাকে।

মাতৃত্বকালীন ডায়াবেটিস কী?

অনেক সময় মেয়েদের গর্ভধারণ করার পর ডায়াবেটিস ধরা পড়ে এবং প্রসবের পর রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে, তাকে মাতৃত্বকালীন ডায়াবেটিস বলে। গর্ভবতী অবস্থায় মায়ের শরীরে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পরিমাণে ইনসুলিন প্রয়োজন হয়, রক্তের গ্লুকোজের পরিমাণ স্বাভাবিক রাখার জন্য। যদি এই ইনসুলিন তৈরিতে শরীর অক্ষম হয় তাহলে ওই গর্ভবতী মায়ের গর্ভাবস্থায় রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়, অর্থাৎ মাতৃত্বকালীন ডায়াবেটিস হয়। তবে, মাতৃত্বকালীন ডায়াবেটিসের জন্য প্লাসেন্টাল হরমোনও দায়ী। প্লাসেন্টা বিবিধ হরমোন তৈরি করে যা শিশুর বৃদ্ধি ও বিকাশে সহায়তা করে।

ডায়াবেটিস আক্রান্ত হলে কী ধরণের জটিলতা হতে পারে?

পক্ষাঘাত স্নায়ুতন্ত্রের জটিলতা, হৃদরোগ, পায়ে পচনশীল ক্ষত, কাটা ছেড়া সহজে ভালো না হওয়া, চক্ষুরোগ, প্রস্রাবে আমিষ বের হওয়া ও পরবর্তীতে কিডনির কার্যক্ষমতা লোপ পাওয়া। পাতলা পায়খানা, যক্ষ্মা, মাড়ির প্রদাহ, চুলকানি, ফোঁড়া, পাঁচড়া ইত্যাদি। তাছাড়া রোগের কারণে যৌনক্ষমতা কমে যায়। মহিলাদের ক্ষেত্রে বেশি ওজনের শিশু জন্ম, মৃত শিশুর জন্ম, অকালে সন্তান প্রসব, জন্মের পর পরেই শিশুর মৃত্যু এবং নানা ধরনের জন্মগত জটিলতা দেখা দিতে পারে।

ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনায় করণীয় কি?

ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনায় চারটি নিয়ম মেনে চলতে হয়-

১. খাদ্য ব্যবস্থা

২. সাধ্যমতো কায়িক পরিশ্রম ও ব্যায়াম

৩. ওষুধ

৪. ডায়াবেটিস সম্পর্কিত শিক্ষা

খাদ্য ব্যবস্থা: ডায়াবেটিস হলে খাদ্যের একটি নির্দিষ্ট নিয়ম সঠিকভাবে মেনে চলতে হয়। খাদ্যের নিয়ম মেনে চলার প্রধান উদ্দেশ্য ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা ও শরীর স্বাস্থ্য ভালো রাখা। খাদ্য গ্রহণের নীতি

ক. শরীরের ওজন বেশি থাকলে কমানো বা কম থাকলে বাড়িয়ে স্বাভাবিক করা এবং স্বাভাবিক থাকলে সেটা বজায় রাখা।

খ. চিনি, মিষ্টি জাতীয় খাবার বাদ দেওয়া।

গ. শর্করাবহুল খাবার কিছুটা হিসাব করে খাওয়া।

ঘ. আঁশবহুল খাবার বেশি খাওয়া।

ঙ. সম্পৃক্ত ফ্যাট কম খাওয়া এবং অসম্পৃক্ত ফ্যাট খাওয়ার অভ্যাস করা।

চ. ক্যালরিবহুল খাবার নির্দেশিত পরিমাণে খাওয়া।

ছ. নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খাওয়া।

জ. কোনো বেলার খাবার খাওয়া বাদ না দেওয়া।

ঝ. আজ কম, কাল বেশি এভাবে না খাওয়া।

কায়িক পরিশ্রম ও ব্যায়াম

এই রোগ নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে ব্যায়াম বা শরীরচর্চার ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ব্যায়াম বা দৈহিক পরিশ্রম মাংসপেশির জড়তা দূর করে এবং রক্ত চলাচলে সাহায্য করে। শরীর সুস্থ থাকে। ফলে ইনসুলিনের কার্যকারিতা বেড়ে যায়। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট এবং সপ্তাহে কমপক্ষে ৫ দিন হাঁটলে শরীর যথেষ্ট সুস্থ থাকবে।

তবে, সকালে ঘুম থেকে উঠেই ব্যায়াম করা যেতে পারে। দীর্ঘ সময় ঘুমের পর সকালে ব্যায়াম সারা দিন ফুরফুরে রাখতে পারে। ওষুধ সব রোগীকেই খাদ্য ব্যবস্থা, ব্যায়াম ও শৃঙ্খলা ঠিকঠাক মেনে চলতে হয়। বিশেষ করে বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে যথাযথভাবে পালন করতে পারলে রোগ নিয়ন্ত্রণে এসে যায়।

কিন্তু টাইপ-১ রোগীদের ক্ষেত্রে ইনসুলিন ইনজেকশনের প্রয়োজন হয়। টাইপ-২ রোগীদের ক্ষেত্রে খাবার বড়ি এবং প্রয়োজনে ইনসুলিন ব্যবহার করতে হয়। শিক্ষা আজীবনের রোগ; সঠিক ব্যবস্থা নিলে এই রোগকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

তাই এ রোগের সুচিকিৎসার জন্য ডায়াবেটিস সম্পর্কে রোগীর যেমন শিক্ষা প্রয়োজন, তেমনি রোগীর নিকটাত্মীয়দেরও এই রোগ সম্পর্কে জ্ঞান থাকা দরকার। কারণ শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ করে খাবার এর বিষয়ে সতর্ক থাকা দরকার।

ডায়াবেটিস প্রতিরোধে ব্ল্যাক টি

চা-পান নিয়ে বিভিন্ন কথাবার্তা এ পর্যন্ত শোনা গেছে। তার মধ্যে ইতিবাচক-নেতিবাচক বহু অনুষঙ্গই রয়েছে। সর্বশেষ একদল গবেষক জানিয়েছেন নতুন এবং একই সঙ্গে আশাব্যঞ্জক কিছু তথ্য।তারা জানিয়েছেন, ব্ল্যাক টি বা চায়ের লিকার ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সহায়ক।

অর্থাৎ ব্লাক টি পান করলে ডায়াবেটিস থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।ডান্ডি ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক এজিং সেল নামক একটি জার্নালে রিপোর্ট প্রকাশ করেছেন। তাতে তারা উল্লেখ করেছেন, ব্ল্যাক টি টাইপ-২ ডায়াবেটিস প্রতিরোধে উল্লেখযোগ্য সহায়ক ভূমিকা রাখতে সক্ষম। তাদের ধারণা চায়ের একটি নির্দিষ্ট উপাদান ইনসুলিনের বিকল্প হিসেবে কাজ করতে পারে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Recent Posts

Popular posts:

google ad

Calender

July 2020
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031