পরের বউ (পর্ব-০১)

Published Date: Thursday, July 23, 2020

পরের বউ (পর্ব-০১)
লেখক: তন্ময় ইমরান
সিনিয়র সাব-এডিটর, bdnews24.com

শহরতলির একদম শেষপ্রান্তে বাড়িটা। নিচতলা গুদাম যেটা বেশিরভাগ সময় বন্ধই থাকে। ভাড়া হয় না। দোতলায় একটা বর-বউয়ের ছিমছাম সংসার। আর চিলেকোঠায় থাকে জামিল। বাড়িওয়ালা থাকেন না, দীর্ঘদিনের ইংল্যান্ড প্রবাস।দোতলার ভাই বাড়িওয়ালার কাজিন। ভাইটা সুদর্শন, আর ভাবি…।

যদি জামিলের বর্ণনায় বলি- ঢাকা ছেড়ে এসে সে এক স্বপ্নের জগতে বসবাস করছে৷ এমন সুন্দরি আর সেক্সি ভাবি যে বাসায় থাকে, সে বাসায় কোন্ যুবকের খারাপ লাগে! তাই শহুরে প্রেমিকার বিয়ে হয়ে যাওয়ায় বুকে বিরহের তীব্র অনুভূতি জামিলকে এখন আর খুব বেশি স্পর্শ করে না। সে অনেকটা অভিমান করে, সবকিছু ছেড়েছুড়ে ওষুধ কোম্পানির সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে যে মফস্বলের এই শহরে এসেছে, তার জন্য মোটেও আপসোস হয় না। বরং মনে হয় এই ভালো।

কাজ শেষে জামিল রাত করে বাড়ি ফেরে জোনাকির মিটিমিটি আলোগান দেখতে দেখতে। বাড়ির সামনে পাকা সরু রাস্তা চলে গেছে দূর গ্রামে। ওপারে রাস্তার বিপরীতে খোলা মাঠ। আর বাড়ির পেছনে মজা বিরাট দীঘি। তারপর ফসলের মাঠ। আরো দূরে সারি সারি গাছ, কোনো এক গ্রামের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে।

দুপুরে বা রাতে দোতলাতেই খাওয়ার ব্যবস্থা জামিলের। দুপুরে না খেলে আগে থেকেই বলে দেয় ফোনে। হ্যান্ডসাম ভাই মফস্বল শহরের সবচেয়ে বড় বইয়ের দোকান চালান। এটার মালিকও ভাই নন। তার সেই প্রবাসী কাজিন। দোকান বন্ধ হয় গভীর রাতে। তারপর চায়ের কাপ কিংবা মদের গ্লাসে রাজা উজির মেরে ঢের রাতে বাড়ি ফেরেন। কাজেই ভাবি একাই প্রতিদিন ভাত সাজিয়ে দেয়। ঘরে অবশ্য তখন ছুটা বুয়া কোনো কোনোদিন থাকে, আবার বেশিরভাগ দিনই থাকে না। যা কথা বলার ভাবিই বলেন। তার খুব ইচ্ছা নিজের ছোট বোনের জন্য জামিলকে পাত্র হিসেবে ঠিক করা। জামিল বোঝে ছোটবোনের বিজ্ঞাপন দিতেই ভাবি হয়তো তার সাথে বেশি কথা বলেন। ছোটবোনের ছবি জামিল দেখেছে। সোজা বাংলায় অনিন্দ্য সুন্দরী। কিন্তু ভাবি যখন তার ছোটবোনের গল্প বলেন, তখন জামিলের মনের ভেতরে যে দৃশ্যকল্প ফুটে উঠে সেটা তার বোনের নয়, বরং ভাবির।

জামিল ভদ্রলোক, আবার পুরুষ৷ তবে সে কেবল পুরুষ নয়, ভদ্রলোকও। ভদ্রলোক এবং পুরুষ। পুরুষ বেশি, নাকি ভদ্রলোক বেশি- তা সে জানে না৷ তবে ভদ্রলোক বেশি কখনো কখনো, দিনের প্রায় পুরোটা সময়। রাতে হয়তো একান্ত নিভৃতে পুরুষ। কথা বলার সময় ভাবির হাল্কা ক্লিভেজ, খুব গরমের দিনে ম্যাগি হাতা বা স্লিভ্লেস জামা বা ব্লাউজ- এসবের মুখোমুখি প্রায়ই সে হয়। তাছাড়া ভাই নাকি সবসময় পছন্দ করে তার বউকে অন্যেরা কামনার চোখে দেখুক! নতুবা নাকি বউয়ের আকর্ষণ কমে যায়! এসব কথা ভাবি বলে। কখনো সখনো ছুটির দিনে ভাইয়ের সাথে খেতে বসলে ভাইও ঠাট্টা মশকরা করতে করতে বলে।

ভাবি বলে- তার বোনকে বিয়ে করলেই নাকি ভাই তার মনের মতো মেয়ে পেত! আর ভাইও বলে শালি তার লাখে এক। রাত একটা বা দুটোর পর জামিলের অ্যাডাল্ট টাইম। চারদিক ছিমছাম। দোতলার ঘর থেকে মাঝে মাঝে ভেসে আসে আদিম শব্দ৷ চিলেকোঠায় শুয়ে এই ইন্টারনেটের যুগেও জামিলের সেই শব্দগুলোকে মনে হয় পৃথিবীর সেরা কামোত্তেজক চলচ্চিত্রের মতো। সে ভাবিকে ভাবে৷ লজ্জাহীনভাবে ভাবে। কোনো কোনো রাতে এমন হয় ভাই-ভাবির মিলনের শব্দ এতোটাই জোরালোভাবে তার মনের মধ্যে গাঁথে যে রীতিমত ওইসব ঘটনার প্রতিটি ক্ষণ পুঙখানুপুঙখভাবে দেখতে পায়। প্রতিটি শীৎকার যেন জীবন্ত বসন্তের কোকিলের গান।

কোনো কোনো রাতে ঝগড়া শুনতে পায়। ভাই টাল হয়ে এসে ভাবিকে ঝগড়ার এক পর্যায়ে চড় থাপ্পড়ও মারেন। একদিন এমন হলো- ভাই খুব মাল খেয়ে এসেছেন, রোমান্টিক মুড। ভর জ্যোছনা। রাত দুটোর মতো বাজে৷ চিলেকোঠায় বাতি নিভিয়ে জামিল শুয়ে শুয়ে ভাবি-ভাবির চূড়ান্ত মিলন শব্দ চোখ বন্ধ করে কল্পনার প্রস্তুতি শুরু করেছে। সেই সময় তাদের আদরটা শুরুও হলো। জামিল বুঝতে পারলো পোশাক খোলা পর্ব চলছে- আর তারপরই ঝগড়া লেগে গেল। ঝগড়ার বিষয়বস্তু- ভাই কনডম আনতে ভুলে গেছেন৷ আর ভাবি রিস্ক নিবেন না। কোনোভাবেই তিনি বিশেষ জন্মবিরতিকরণ পিল খাবেন না৷ কেননা তাতে নাকি উনার কী কী শারীরিক সমস্যা হয়! ঝগড়া চড়তে থাকলো৷ এই পর্যায়ে জামিল কল্পনা করা ছেড়ে দিল। কেননা প্রেমরত নগ্ন নারী-পুরুষ কল্পনা করা যত উত্তেজনার, ঝগড়ারত নগ্ন যুগল কল্পনা ততোই বমির উদ্রেক ঘটায়!
একসময় সে চড়ের আওয়াজ শুনলো। আটমাস এই শহরে এসেছে মাসে অন্তত দুবার এই পরিস্থিতি তৈরি হয়। জামিল অত্যন্ত বিরক্ত হলো ভাইয়ের প্রতি। এইসময়টা তার বরবরই মনে হয়- কালই ভাবিকে অ্যাপ্রোচ করে ভাইয়ের জীবন থেকে সরিয়ে নিয়ে যাবে! কেন যেন জামিলের মনে হয় ব্যাপারটা সে পারবে। পরদিন আর কিছুই করা হয় না।

সে যাইহোক সে রাতে প্রথম একটা ব্যতিক্রম ঘটনা ঘটলো। ভাই-ভাবির ঝগড়ার পর বেশ কিছুক্ষণ সময় মোবাইলে কাটিয়ে সে যখন ঘুমাতে যাবে, তখনই আবিষ্কার করলো ভাবি ছাদে উঠেছেন। কেন যেন জামিলের মনে হলো ভাবিকে জানানো যাবে না, সে জেগে আছে। চুপিচুপি ছেলে মানুষের মতো শব্দ না করেই ভেজানো দরজা সামান্য ফাঁক করলো। দেখলো- জ্যোছনার তীব্র আলোয় সাদা নাইটি পরে ভাবি দাঁড়িয়ে আছেন- রাস্তার ওপারের ফসলের খেতের দিকে চেয়ে। এ রাস্তায় একটা খুব অল্প পাওয়ারের স্ট্রিট লাইট আছে। সেটা আর চাঁদের আলো দুটোই ভাবির বিপরীত দিকে ফলে ফুটে উঠেছে ভাবির পুরোটা শরীরের অবয়ব।

নার্ভাস ভঙ্গিতে অন্ধকারের মধ্যে হাতিয়ে সিগারেটের প্যাকেট খুঁজে বের করলো জামিল। পাশেই লাইটার থাকে। খোঁজা থেকে শুরু করে ফস করে সিগারেট ধরানো পর্যন্ত ১০ সেকেন্ড সময়ও লাগলো না। আর সিগারেট ধরানোর পরই বুঝতে পারলো – ধুস বিরাট এক ভুল করে ফেলেছে। ভাবি টের পেয়ে পেছনে মাথা ঘোরালেন। তারপর আবার যেদিকে তাকিয়ে ছিলেন সেদিকে তাকিয়েই বললেন- জেগে আছো এখনো!
সেভাবেই খালি গায়ে জামিল বাইরে বেরিয়ে এলো ছাদে। প্রথমে থতমত খেলেও গুছিয়ে নিল নিজেকে। সে মোটামুটি ভালো মাপের সেলস গাই। পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়া দ্রুত রপ্ত করেছে গত আটমাসে। সিগারেটে কষে এক টান দিল৷ কিছু বললো না। দাঁড়ালো ভাবির পাশে একটু দূরত্ব রেখে। এখান থেকে ভাবির স্বচ্ছ পোশাকের ভেতর দিয়ে সুগঠিত স্তন সাদা ডিম লাইটের মতো আলো ছড়াচ্ছে। ভাবির চুল উড়ছে।
– ঝগড়া শুনেছ?
জামিল উত্তর না দিয়ে আরেকবার সিগারেটে টান দেয়। অপেক্ষা করে আহ্বান কিংবা ভৎর্সনা, আবেদন কিংবা সম্পূর্ণ নতুন কিছু শোনার জন্য।
– তুমি রোজ রাতে সব শোন তাই না! এমনকি আমাদের…
ভাবি থেমে যায়। জামিল অবাক হয়। এতোক্ষণ যে যৌন তাড়না ছিল, তার সাথে মস্তিষ্কে যোগ হয়- কৌতূহল। ভাবি যদি জানেই সে তার ও ভাইয়ের গোপন যৌন জীবনের সবটা উপরে শুনতে পায়, তাহলে তারা কেন সাবধান হয় না?
সিগারেটে আরেকটা টান দিয়ে কৌতূহল চাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু মুখ ফসকে বেরিয়ে যায় প্রশ্ন- আপনারা জানার পরও এতো শব্দ করেন!
ভাবি ঘুরে দাঁড়ায়৷ বলে- আচ্ছা পৃথিবীতে তো নানান জাতের মানুষ আছে তাই না! আমরা দুজন ধরো একটু অন্য রকম।
– মানে?
– তোমাকে বরং বলি কী হয়েছিল।
ভাবি থেমে যান। হয়তো হাতে পুরো রাত এবং সলাএর অনেকখানি সময় আছে তাই! হয়তো তার গল্প ততোটা বড় নয় যা দিয়ে সে জামিলকে দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখতে পারবে। হয়তো এই সময় নেওয়ার মানে গল্পটা গুছিয়ে নেওয়া কিংবা জামিলকে একটা আহ্বান জানানো সবকিছু করে ফেলার।

জামিল উত্তেজিত হয়ে আরেকটা সিগারেট ধরায়। তখনি সে বুঝতে পারে বিরাট একটা ভুল করেছে৷ রাতে ছোলার ডাল দিয়ে দেশি মুরগি খেয়েছিল। ভোর রাতে পর পর দুটো সিগারেট সেই পুরোপুরি না হজম হওয়া দেশি মুরগির প্রেতাত্মাকে জাগিয়ে তুলেছে। প্রচন্ড একটা মোচড় দিল পেটে।
নাহ, টয়লেটে না গেলেই নয়। সে ভাবিকে বলে উঠলো- ভাবি, আপনি বরং ইমোশনাল হয়ে আছেন। আর দয়াহ মিনিট সময় নেন৷ ভাবুন আমাকেই বলবেন কিনা! আমি ততোক্ষণে আসছি।

মনে মনে নিজের ভাগ্যকে শাপ-শাপান্ত করতে করতে জামিল ঘরে ফিরে ওয়াশরুমে ঢুকলো। এই সময়টা সে ভাবিকে নিয়ে নানান ফ্যান্টাসিতে কাটিয়েছে। কাজেই সব তাড়াহুড়ো করে সেরেও আধঘণ্টা ব্যয় হয়ে গেল আবার ছাদে ফিরতে। দেখলো ভাবি নেই…!
(গল্পটা চলবে। চেষ্টা করবো পরপর দুটি বা তিনটি পর্ব দিয়ে ইরোটিক গল্পটা শেষ করতে।)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Popular posts:

google ad

Calender

August 2020
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31