শারাবান তাহুরার বিখ্যাত কবিতা

Published Date: Wednesday, August 7, 2019
  1. বরং একটা বিয়ে করে নাও
    শারাবান তাহুরা

আম ডালে বোল দেখে বুঝি আঁতকে উঠলে!
“এবারো শীত গেল!
– বিবাহ হল না”

বোকা মেয়ে! কেবল শীতই কি বিবাহের ঋতু!
আমাদের বিয়ে বসন্তে হবে, হুম…।
পলাশের রঙ গাঢ় হবে, তোমার ঠোঁট, চিবুক, ললাট…।
তুমি যেন আতরের ফুল খোঁপায় গুঁজতে ভুলোনা।
আমি বরং পর্দা টেনে দেব জানলার-
অহেতুক জোছনার অনধিকার প্রবেশ নিষেধ।

সরিষা বীজ সোনালী হলে তুমি ভয় পেয়না গো
তুমি বরং মশুর কলাই ফেটে যাওয়ার আগেই ঘরে তুলে নাও।
অপেক্ষা করো নৈঋতা-
সবুরে মেওয়া ফলে।

আজ তোমাদের কোন ঋতু? বসন্ত বুঝি!
আর দেখো, আমার এখানে শীত! তীব্র শীত!
শীতরা আমার শরীরের ভাঁজে ভাঁজে কাটে।
মাঝে মাঝে অবাক হই জানো-
এই বিঢ়াট বিঢ়াট লোহার গরাদ ভেদ করে শীতরা কারাগারে কেন আসে!
আমার পায়ে ফাঁটল ধরেছে। মুখে মানচিত্র।

এমা, তুমি কাঁদছ কেন!
ষাট্, ষাট্ আমার মরণ হোক, ওলাউঠা হোক
তুমি কেঁদোনা গো নৈঋতা-।
বাতি নিভিয়ে, জানলায় হেলান দিয়ে তুমি যে আকাশ দেখছো না আমি জানি।
কতগুলো বসন্ত গননায় বারবার ভুল করছ।

বোকা মেয়ে, বসন্ত কি একমাত্র ঋতু!
তোমার না বর্ষা প্রিয়!
আচ্ছা যাও, কথা দিলাম- বিয়ে হবে বর্ষায়।
তোমার লাল চেলি আর বেগুনী চপ্পল
আমার কাদামাখা উঠোন-
পিঠের সীমারেখায় কত যে খুনসুটি, হা- হা…।

এ বেলা তুমি ঘুমিও না আর
বরং একটা একটা জোনাকি গেঁথে নাও।
অপেক্ষা কর নৈঋতা!
সবুরে মেওয়া ফলে।

মরার আকাশ এতো কাঁদে কেন! বর্ষা কি এলো?
এখানে তো সিঁধেল আঁধার।
গোমোট অসুখে আমার পায়ে পঁচন ধরেছে।

ওকি মেয়ে! তোমার চোখে কুটো পড়ল!
অমন রক্তিম জবা ফুল হয়ে গেছে!

হ্যা গো, গাঙে নতুন পানি এসেছে? মাছও?
তুমি নতুন জিউল মাছ কুটে শাপলার সালুন রাঁধবে
আমি কিন্তু রবারের মোড়া নিয়ে তোমার পাশেই বসে থাকবো।
ওহ্…., এবার আমার চোখে কুটো!

থাক্ থাক্
তুমি আর অপেক্ষা করো না নৈঋতা
তুমি বরং একটা বিবাহ করে নাও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Popular posts:

google ad

Calender

June 2021
MTWTFSS
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930