শটকার্টে ব্যাংকের প্রিলি প্রস্তুতি নিবেন যেভাবে

Published Date: Monday, February 3, 2020

সরকারী ব্যাংকের সাম্প্রতিক অনুষ্টিত পরীক্ষাগুলোর আলোকে বিশ্লেষন করে কোন অংশ এর প্রস্তুতি কোথা থেকে নেওয়া উচিত সেই অনুযায়ী আলোচনা করা যায়। আপনি যদি ব্যাংক এ চাকুরির জন্য কিভাবে প্রস্তুতি নিবেন এই ভেবে চিন্তায় থাকেন তাহলে এই লেখাটি আপনার জন্য।

কোন কিছু আরম্ভ করার আগে যেমন বিসমিল্লাহ বলা লাগে তেমনি ব্যাংকে চাকুরির প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য প্রথম থেকে যেটা আপনার হাতের মুঠোয় লাগবে সেটা হলো বিগত বছরের সকল ব্যাংক পরীক্ষার প্রশ্ন। এক্ষেত্রে আপনি বাজার থেকে ক্রয় করতে পারেন প্রফেসরস এর “Key to Government Bank job”এবং “Key to private Bank Job” বই দুটি। অনেকেই আরিফুর রহমান-এর “Bank job digest” সাজেস্ট করে থাকেন। তবে আপনি আপনার পছন্দকে প্রাধান্য দিবেন।

এরপর আলোচনা করা যায় বিষয় ভিত্তিক নিয়ে।

আরো পড়ুন: ব্যাংক জব নিয়োগ পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়ার একটি সাইকোলজিক্যাল কারণ

গনিত: ব্যাংকে চাকরি পাওয়ার মূল হাতিয়ার হলো ম্যাথ। ম্যাথ পারলে চাকরি পাবেন না হলেই যে নয়। যারা ম্যাথ পারে না একমাত্র তারাই জানে ম্যাথ কত বড় ভয়ংকর বিষয়। ম্যাথে কমন বিষয় বলতে কিছু নাই কারন এই বিষয়ে প্রস্তুতির জন্য নির্দিষ্ট কোন বই নাই। নিজের অবস্থা অনুযায়ি নিজেকেই ব্যবস্থা নিতে হবে। কখনই কমন পাওয়ার আশায় কোন ম্যাথ করা যাবে না। নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌছানোর জন্য নিরলশ অনুশীলন করে যেতে হবে। যদি ম্যাথে আপনার জ্ঞানের পরিধি কম হয়ে থাকে তাহলে আমি বলব আপনি ৩য় শ্রেনীর বই থেকে শুরু করে ৮ম শ্রেনীর ম্যাথের বই পড়তে পারেন। এমনকি আপনি গাইড বই এর সাহায্য নিয়েও সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারেন এবং আপনার ম্যাথের জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধি করতে পারেন। যদি মোটামুটি ১৫/২০ টি ম্যাথ আপনি নিজেই মিলাতে পারেন, তবে আমি বলব খাইরুলস বেসিক ম্যাথ এবং MP3 ম্যাথ করেন।

যদি ম্যাথে নিজের অবস্থান আরো ভালো করতে পারেন তবে আপনি সাইফুরস ম্যাথ করনে। পাশাপাশি আপনি জাফর ইকবাল আনসারীর রিটেন ম্যাথ এবং আরিফুর রহমানের রিটেন ম্যাথ দুইটা বই অনুশীলন করতে পারেন। আপনি এগুলোতে পারদর্শী হলে কিছু ইন্ডিয়ান ওয়েবসাইট থেকে ম্যাথ করেন। ইন্ডিয়ান ওয়েবসাইট এর উপর ভিত্তি করে কিছু বই নীলক্ষেতে কিনতে পাওয়া যায়। বই না পেলে এসব ওয়েবসাইট দেখে দেথে ম্যাথ আয়ত্ত করতে পারেন। এছাড়াও আগারওয়াল এর বাংলা বার্সন বই পাওয়া যায় সেটাও দেখতে পারেন।

একটা বিষয় হলো ম্যাথ সবাই পারে আসল ব্যাপার হইল কে কত অল্প সময়ে মিলাইতে/করতে পারে। প্রিলি পরীক্ষায় যদি আপনি ৩০ টা ম্যাথ ৩০ মিনিটে শেষ করতে পারেন এবং এর মধ্যে ২২+ ম্যাথ আপনার সঠিক হয়, তবে ধরে নিতে পারেন ম্যাথে আপনি দক্ষ। সুতরাং নির্দিষ্ট কোন বই এর উপর নির্ভরশীল না হয়ে যেখানে ম্যাথ পাবেন সেটাই সমাধান করার চেষ্টা করেন। ম্যাথে ভালো করার কোন শর্টকাট বুদ্ধি নাই। একমাত্র উপায় হলো খাতা কলম নিয়ে নিজের হাতে বেশি বেশি ম্যাথ অনুশীলন করা। তবে শর্টকাট উপায় না শিখে বুঝে শুনে করবেন। বেসিক ভালো হলে ম্যাথ কোন ব্যাপরই না।

আরো পড়ুন: রূপালী ব্যাংক সিনিয়র অফিসার লিখিত গণিতগুলোর বিস্তারিত সমাধান

ইংলিশ: ব্যাংকের মা বাপ যদি অংক হয় তাহলে ইংলিশ হলো ব্যাংকে চাকরি পাওয়ার চৌদ্দগোষ্টি। ব্যাংকের চাকরি মানেই ম্যাথ এবং ইংলিশ। ইংলিশ এর প্রধান অস্ত্র হইল “English for competitive Exam” বই। বিশাল জিনিস পড়লেই বুঝতে পারবেন। ব্যাংকের বিশাল একটা অংশ হলো ভোকাবুলারি।ভোকাবুলারি মুখস্ত করার মত বিরক্তিকর বিষয়টি যদি আপনি খুব সহজে আয়ত্তে আনতে চান তাহলে “New GRE Vocabulary Solution 2.0” বইটি দেখতে পারেন। প্রায়ই এই বই থেকে কমন পাওয়া যায়। মুখস্ত করার ব্যাপার আপনার নিজের। তাছাড়া গ্রামার শেখার অনেক বই আছে পছন্দমত পড়ার দায়িত্ব আপনার।

জাকির হুসাইন এর “A Passage to English Crammer” বইটি দেখতে পারেন। পাশাপাশি Cliffs-এর “TOEFL” এবং সাইফুরস এর “Newest Crammer” বই পড়তে পারেন। সাথে গত বছরগুলোর ইংলিশ প্রশ্ন তো অবশ্যই অনুশীলন করবেন। তবে অনুবাদটা ভালো করে শিখবেন এবং নিজেন আয়ত্তে আনবেন। লিখিত পরীক্ষার ক্ষেত্রে অনুবাদ খুবই গুরুত্বপূর্ন বিষয়। এটা শিখার কোন নির্দিষ্ট নিয়মকানুন নাই। প্রতিদিন কমপক্ষে একটি করে অনুবাদ শিখতে হবে তাহলে আপনি একদিন অনুবাদের বস হয়ে যাবেন। এক্ষেত্রে আরিফুর রহমান এর “Bank written suggestion” বইটা দেখতে পারেন অথবা বিসিএস রিটেনের ইংলিশ বই এর অনুবাদ অংশটা কোথাও থেকে ফটোকপি করিয়ে নিতে পারেন। অনুশীলন ছাড়া অনুবাদ শেখার কোন শর্টকাট নিয়ম নাই।

বাংলা: ব্যাংকে চাকরির জন্য বাংলা বিশেষ করে বাংলা ব্যাকরন একটি অতি গুরুত্বপূর্ন বিষয়। সেক্ষেত্রে বাংলা ব্যাকরনে ভালো করতে হলে আপনাকে ক্লাস নাইন এর বাংলা ব্যাকরনের বইটি অবশ্যই পড়তে হবে। তাছাড়া আপনি MP3 বাংলা বইটা রাখতে পারেন প্র্যাকটিস করার জন্য। আমি মনে করি এই দুটি বই-ই বাংলার পরা প্রস্তুতির জন্য যথেষ্ট। পাশাপাশি যদি পারেন তাহলে আপনি প্রিলিমিনারি ডাইজেস্ট এর বাংলা অংশ দেখতে পারেন।

সাধারন জ্ঞান: ব্যাংকের প্রিলি মানেই সাম্প্রতি বিষয়ের উপর প্রশ্ন। সেক্ষেত্রে প্রধান অস্ত্র হলো প্রতি মাসের কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স, তাছাড়া বিসিএস পরীক্ষার আগে যে ডাইজেস্ট বাজারে বের হয় সেটা কিনতে পারেন। এ নিয়েই পড়াশুনা করতে পারলে সাধারন জ্ঞানের প্রস্তুতি মোটামুটি সম্পন্ন হবে।

কম্পিউটার: কম্পিউটার বিষয়ে বাজারে যত বই আছে সবগুলো বই এর মধ্যে ইজি কম্পিউটার হলো সবচেয়ে ভালো বই। আশা করি সব প্রশ্ন এখান থেকে আসবে আর যদি এর বাহিরে থেকে আসে তাহলে কিছু করার নেই। সাথে Exam aid প্রকাশনার কম্পিউটার বইটা রাখতে পারেন।

উপরে উল্লেখিত যাবতীয় বিষয় যতি আপনি মেনে সামনে এগোতে পারেন তাহলে বিসিএস-এর ১০০ ভাগের এক ভাগ প্ররিশ্রম দিয়ে আপনার ব্যাংকের চাকরীর প্রস্তুতি হয়ে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Recent Posts

Popular posts:

google ad

Calender

July 2020
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031