বাগধারার শব্দ ভান্ডার

Published Date: Wednesday, July 24, 2019

বাগধারা বা বাগ্বধি মানে ‘কথার ধারা বা বুধি’। পৃথিবীর সব ভাষাতেই এমন কতগুলো শব্দ আছে সেগুলো নিছক ব্যাকরণগত বা আভিধানিক অর্থ মাত্র
প্রকাশ করে না। এগুলোর অন্তর্নিহিত ভাব বা অর্থই প্রধান। এ জাতীয় শব্দ সমষ্টিকেই বাগধারা বা বাগ্বিধি বলা হয়ে থাকে। বাগ্ধারায় প্রায়শঃ বাচ্যর্থ হয় না, লক্ষার্থে বা শব্দার্থই এর অন্তর্গত ভাবকে প্রকাশ করে।

যেমন:

আকাশকুসুম (অসম্ভব কল্পনা) – ওসব আকাশকুসুম ভেবে সময় নষ্ট করে লাভ নেই, বাস্তবে ফিরে এস।
আকাশ-পাতাল (দুস্তর ব্যবধান) – হাবিব ও হাসান সহোদর ভাই, কিন্তু দুজনের চরিত্রে আকাশ-পাতাল ব্যবধান।
আক্কেল গুড়ুম (স্তম্ভিত) – এইটুকু ছেলের কথা শুনে আমার তো আক্কেল গুড়ুম।
আকাশ ভেঙে পড়া (মহাবিপদ) – বাবার মৃত্যু সংবাদ পেয়ে শারমিনের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ল।
আক্কেল সেলামী (নির্বুদ্ধিতার শাস্তি) – বিনা টিকেটে যারা রেল ভ্রমণ করে তাদেরকে মাঝে মধ্যে আক্কেল সেলামী দিতে হয়।
আকাশে তোলা (মাত্রাতিরিক্ত প্রশংসা) – প্রশংসা করতে করতে তাকে আকাশে তুলেছ তো এখন আর কাউকে সে পাত্তাই দেয় না।
আক্কেল দাঁত (বুদ্ধির পরিপক্বতা) – এসব কঠিন কথার মর্ম তুমি বুঝবে না; তোমার তো দেখি আক্কেল দাতই গজায়নি।
আখের গোছানো (স্বার্থ হাসিল করা) – লোকটাকে দেখে তো ভালই মনে হয়েছিল, কিন্তু সে যে সবার সর্বনাশ করে আখের গোছাবে কে জানে?
আগুন নিয়ে খেলা (বিপদের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করা) – ছাপোষা কর্মচারী হয়ে মাকিলের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছ; এ যে আগুন নিয়ে খেলা তা একবার ভেবে
দেখেছ?
আগুন লাগা সংসার (ভেঙে যাচ্ছে এমন সংসার) – আজীবন শুধু সুখ সুখ করছ, কিন্তু এমন আগুন লাগা সংসারে সুখ আসবে কি করে!
আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ (হঠাত বড় লোক হওয়া) –যারা আঙ্গুল ফুলে কালাগাছ হয় তারা ধরাকে সরজ্ঞান করে।
আঁতে ঘা (মনকষ্ট) – এমনিতেই ভালই, কিন্তু টাকা চাইলেই তোমার আঁতে ঘা লাগে।
আদাজল খেয়ে লাগা (উঠে পরে লাগা, সবিশেষ চেষ্টা) – সে তো তোমার কোন ক্ষতি করেনি; তাঁর ক্ষতি করার জন্য তুমি এভাবে আদাজল খেয়ে লেগেছ
কেন?
আদায়-কাচঁকলায় (শত্রুতা) – তারা একই এলাকার লোক কিন্তু দুজনে আদায়-কাচঁকলায় সম্পর্ক।
আঠার মাসে বছর (দীর্ঘসূত্রিতা) – সাত দিনের মধ্যে সে কিছতেই একাজ সম্পন্ন কতে পারবে না- তার তো আঠার মাসে বছর।
আটকপালে (হতভাগা) – বিয়ের দিন না পেরোতেই স্বামী হারালো, কী আটকপালে মেয়েরে বাবা!
আমড়া কাঠের ঢেঁকি (অপদার্থ) – তোমাকে বললাম একটা কর্মঠ ছেলে এনে দিতে, আর তুমি এনে দিলে একটা আমড়া কাঠের ঢেঁকি।
আধাঁর ঘরের মানিক (অতি প্রিয় বস্তু) – এক মাত্র এই পুত্র সন্তাটিই বিধবা মায়ের আধাঁর ঘরের মানিক।
আষাঢ়ে গল্প (আজগুবি গল্প) – যুগ পাল্টেছে, এখন আর আষাঢ়ে গল্প কেউ শোনে না।
আপন পায়ে কুড়াল মারা (নিজের অনিষ্ট করা) – দুষ্ট লোকের পাল্লায় পড়ে মেয়েটা আপন পায়ে কুড়াল মারলো।

দেশের নাম- সাধারণ জ্ঞান

ইচঁড়ে পাকা (অকালপক্ব) – ছেলেটা এমন ইচঁড়ে পাকা হয়েছে যে, সব কিছতেই মুরুব্বীয়ানা ফলাতে চায়।
ইঁদুর কপালে (মন্দ ভাগ্য) – এতো কষ্ট করেও সুখের মুখ দেখলে না, তুমি আসলেই একটা ইঁদুর কপালে।
ইতরবিশেষ (বৈষম্য) – ধনী-গরীবের এই ইতরবিশেষ ভুলে গিয়ে মানুষকে মানুষের মর্যাদা দাও।
উড়নচণ্ডী (অমিতব্যয়ী) উড়নচণ্ডী ছেলেটাকে নিয়ে বাবা-মা বিপদে পড়েছে।
উত্তম-মধ্যম (প্রহর) – উত্তম-মধ্যম দিয়ে গ্রামবাসীরা চোরটাকে ছেড়ে দিল।
উভয় সংকট (দু’দিকেই বিপদ) – বড় সাহেবের কথামতো না চললে চাকরি যাবে, এদিকে জ্বলজ্যান্ত মিথ্যেয়াকেও হজম করতে পারছিনা- আমি পড়েছি
উভয় সংকটে।
উলুবনে মুক্তা ছড়ানো (অপাত্রে দান) – চোরের কাছে ধর্মের কাহিনী বলা আর উলুবনে মুক্তা ছড়ানো একই কথা।
উঠতে বসতে (সব সময়) – শ্বশুরের কাছ থেকে যৌতুকের অর্থ গ্রহন করেছ – এখন উঠতে বসতে বুয়ের খোটা শুনতেই হবে।
উদোর পিণ্ডি বুদোর ঘাড়ে (একজনের অপরাধ অন্যের উপর চাপানো) – অসাধু লোকেরা বরাবরই উদোর পিণ্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপাতে চায়।
উড়ে এসে জুড়ে বসা (অযাচিতভাবে এসে সর্বেসর্বা হওয়া) – তুমি কে হে উড়ে এসে জুড়ে বসেছ?
ঊনপঞ্চশ বায়ু (পাগলামি) – ওর সামনে বিয়ের কথা তুল না, এখনি কিন্তু ঊনপঞ্চাশ বায়ু বেড়ে যাবে।
ঊনপাঁজুরে (হতভাগ্য) – মিছিমিছি ঊনপাঁজুরে বলে মেয়েটার মন কেন খারাপ করে দিচ্ছ; দেখবে একদিন সে ঠিকই সৌভাগ্যের মুখ দেখবে।
একচোখো (পক্ষপাত) – জিম্বাবুয়ের একচোখো আম্পায়ারটা বাংলাদেশের পরাজয়কে আরও ত্বরান্বিত করেছে।
এলাহি কাণ্ড (বিরাট ব্যাপার) – সামান্য বিষয়টাকে নিয়ে তোমরা একেবারে এলাহি কাণ্ড বাঁধিয়ে ফেলেছ।
এক নজরে (অতি অল্প সময়ের জন্য) – শুধু এক নজরে তোমাকে দেখার জন্য এত হূর থেকে ছুটে এসেছি।
এক ঢিলে দুই পাখি মারা (এক সাথে দুই কাজ সমাধা করা) – গাইড হাউস মঞ্চে নাটক দেখবো সে সাথে টুকিটাকি বাজারটা ও সেরে নেব – এক ঢিলে দুই
পাখি মারব আর কি।
একাদশে বৃহস্পতি (সুসময়) – পাস করতে না করতেই আপনার ছেলেটা ভাল চাকরি পেয়ে গেল, আপনার তো ভাই একাদশে বৃহস্পতি।
একাই একশ (অসাধারণ কর্মকুশল) – আসাদ থাকতে আমাদের কোন চিন্তা নেই, সে তো একাই একশ।
এক কথার মানুষ (যার কথায় নড়চড় হয় না) – বড় সাহেবের সিদ্ধান্তের কোন পরিবর্তন হবে না, তিনি এক কথার মানুষ।
এক মাঘে শীত যায় না (বিপদ একবার আসে না) – বিপদ চলে গেছ তাই তিনি আমাদের ঝোঁজ নেন না, কিন্তু বিপদ আসতে কতক্ষন, এক মাঘে শীত যায়
না।

এসপার ওসপার (মীমাংসা) – খামাখাই মামলাটাকে তোমরা ঝুলিয়ে রেখেছ – এবার একটা এসপার – ওসপার করে ফেল।
এক ক্ষুরে মাথা মুড়ানো (একই প্রকৃতির লোক) – টুটুল যেমন বেয়াদব, সেন্টুও তেমনি- দু’জনে যেন একই ক্ষুরে মাথা মুড়ানো।
এলোপাতাড়ি (বিশৃঙ্খলভাবে) – পড়ার টেবিলে বই – পুস্তুকগুলো এলোপাতাড়িভাবে পড়ে আছে।
ওজন বুঝে চলা (আত্মসম্মান রক্ষা করা) – বয়স কিন্তু আপনার কম হয়নি, এবার ওজন বুঝে চলুন।
ওষুধ পড়া (প্রভাপ পড়া) – মেয়েটি আগে এমন ছিল না, কে যেন অকে ওষুধ পড়া দিয়েছ।
কই মাছের প্রান (যা সহজে মরে না) – কী কই মাছের প্রাণরে বাবা – এত মার খেয়েও চোরটা দিব্বি হেঁটে যাচ্ছে।
কড়ায়গণ্ডায় (পুরুপুরি) – তোমাদের পাওনা আমি কড়ায়গণ্ডায় বুঝিয়ে দিয়েছি।
কথায় চিড়া ভিজা (বিনা ব্যয়ে কার্য সিদ্ধি) – শুধু মিঠা কথায় চিড়া ভিজবে না, মাল ছাড়তে হবে।
কলুর বলদ (পরাধীন/নির্বিকারে যে পরিশ্রম করে) – কলুর বলদের মতো সারাজীবন শুধু খেটেই মরল, বিনিময়ে কি পেল?
কলির সন্ধ্যা (কষ্টের সূচনা) – এটুকু কষ্ট দেখেই ভীত হয়ে পড়েছ,কেবলতো কলির সন্ধ্যা।
ক-অক্ষর গোমাংস (বর্ণ পরিচয়হীন মূর্খ) – অনেক ধন-সম্পদ থাকলে কি হবে, সে একেবারে ক-অক্ষর গোমাংস।
কলমের খোঁচা (লিখে ক্ষতি করা) – সুদখোর মহাজনরা অনেক সময় কলমের খোঁচায় কৃষকদের সর্বসান্ত করে থাকে।
কলম পেষা ( একঘেয়ে কেরানির কাজ) – সারাজীবন শুধু কলম পিষেই কাটিয়ে দিলে, জীবনের স্বাদ কিছুই পেলে না।
কলকাঠি নাড়া (গোপনে কু-পরামর্শ দেওয়া) – তমাল তার নিজের বুদ্ধিতে একাজ করছে না, কেউ না কেউ উপর থেকে কলকাঠি নাড়াচ্ছে।
কথা চালা (রটনা করা) – কথা চালার হলে অনেক মিথ্যা খবরও মুখরোচক সংবাদ হয়ে দাঁড়ায়।
কত ধানে কত চাল (যথার্থ হিসাব-নিকাশ) – এখন গা করছো না, যখন সংসারের বোঝাটা ঘাড়ে পড়বে তখন বুখবে কত ধানে কত চাল।
কপাল ফেরা (অবস্থার উন্নতি হওয়া) – ছেলেটা বিদেশ যাওয়ায় এতদিনে তাঁর কপাল ফিরেছে।
কান পাতলা (সব কথায় বিশ্বাস করা) – কান পাতলা বন্ধুরা অনেক সময় বিপদের কারন হয়ে দাঁড়ায়।
কাঁঠালের আমসত্ত্ব (অমুলক বস্তু) – তোমার কথায় আমি মোটেই আগ্রহী নই, এতক্ষণ যা বললে তা সবই কাঁঠালের আমসত্ত্ব।
কড়ার ভিখারী (নিঃস্ব ব্যক্তি) – মহাপরাক্রমশীল রাজা-বাদশারাও ভাগ্য দোষে একবারে কড়ার ভিখারীরে পরিণত হয়।

যেকোন চাকরি কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় এখান থেকে অবশ্যই কমন আসবে। শেয়ার করে সংগ্রহে রাখুন।

মাত্র ২০ মিনিটে মুখস্ত করুন বিশ্বের সব দেশের মুদ্রার নাম

অগ্নিপরীক্ষা: কঠিন পরীক্ষা
অনধিকার চর্চা: সীমার বাইরে পদক্ষেপ
অগ্নিশর্মা: ক্ষিপ্ত
অরণ্যে রোদন: নিষ্ফল আবেদন
অগাধ জলের মাছ: খুব চালাক
অহি-নকুল সম্বন্ধ: ভীষণ শত্রুতা
অতি চালাকের গলায় দড়ি: বেশি চাতুর্যের পরিণাম
অন্ধকার দেখা: দিশেহারা হয়ে পড়া
অতি লোভে তাঁতি নষ্ট: লোভে ক্ষতি
অমাবস্যার চাঁদ: দুর্লভ বস্তু
অদৃষ্টের পরিহাস: বিধির বিড়ম্বনা, ভাগ্যের নিষ্ঠুরতা
অনুরোধে ঢেঁকি গেলা: অনুরোধে দুরূহ কাজ সম্পন্ন করতে সম্মতি দেয়া

আকাশে তোলা: অতিরিক্ত প্রশংসা করা
আঙুল ফুলে কলাগাছ: হঠাৎ বড়লোক
আষাঢ়ে গল্প: আজগুবি কেচ্ছা
আঠার আনা: সমূহ সম্ভাবনা
আহ্লাদে আটখানা: খুব খুশি
আলালের ঘরের দুলাল: অতি আদরে নষ্ট পুত্র
আটকপালে: হতভাগ্য
আদায় কাঁচকলায়: তিক্ত সম্পর্ক
আঠার মাসের বছর: দীর্ঘসূত্রিতা
আক্কেল সেলামি: নির্বুদ্ধিতার দণ্ড

ইতর বিশেষ: পার্থক্য
ইলশে গুঁড়ি: গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি
ইঁচড়ে পাকা: অকালপক্ব
ইঁদুর কপালে: নিতান্ত মন্দভাগ্য

উড়ো চিঠি: বেনামি পত্র
ঊনপঞ্চাশ বায়ু: পাগলামি
উত্তম মধ্যম: প্রহার
ঊনপাঁজুড়ে: অপদার্থ
উলু বনে মুক্ত ছড়ানো: অপাত্রে/অস্থানে মূল্যবান দ্রব্য প্রদান
উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে: একের দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপানো
উড়ে এসে জুড়ে বসা: অনধিকারীর অধিকার
উড়নচন্ডী: অমিতব্যয়ী
উজানে কৈ: সহজলভ্য
উভয় সংকট: দুই দিকেই বিপদ

এক ক্ষুরে মাথা মুড়ানো: একই স্বভাবের
এসপার ওসপার: মীমাংসা
একাদশে বৃহস্পতি: সৌভাগ্যের বিষয়
এলোপাতাড়ি: বিশৃঙ্খলা
এলাহি কাণ্ড: বিরাট আয়োজন
এক চোখা: পক্ষপাতিত্ব, পক্ষপাতদুষ্ট
এক বনে দুই বাঘ: প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী
এক মাঘে শীত যায় না: বিপদ এক বারই আসে না, বার বার আসে
এক ক্ষুরে মাথা মুড়ানো: একই দলভুক্ত

ওষুধে ধরা: প্রার্থিত ফল পাওয়া
ওজন বুঝে চলা: অবস্থা বুঝে চলা

কাঁঠালের আমসত্ত্ব: অসম্ভব বস্তু
কাকতাল: আকস্মিক/দৈব যোগাযোগজাত ঘটনা
কূপমণ্ডুক: সীমাবদ্ধ জ্ঞান সম্পন্ন, ঘরকুনো
কচুকাটা করা: নির্মমভাবে ধ্বংস করা
কেঁচো খুড়তে সাপ: বিপদজনক পরিস্থিতি
কচু পোড়া: অখাদ্য
কই মাছের প্রাণ: যা সহজে মরে না
কচ্ছপের কামড়: যা সহজে ছাড়ে না
কুঁড়ের বাদশা: খুব অলস
কলম পেষা: কেরানিগিরি
কাক ভূষণ্ডী: দীর্ঘজীবী
কলুর বলদ: এক টানা খাটুনি
কেতা দুরস্ত: পরিপাটি
কথার কথা: গুরুত্বহীন কথা
কাছা আলগা: অসাবধান
কাঁঠালের আমসত্ত্ব: অসম্ভব বস্তু
কাঁচা পয়সা: নগদ উপার্জন
কপাল ফেরা: সৌভাগ্য লাভ

খাল কেটে কুমির আনা: বিপদ ডেকে আনা
খণ্ড প্রলয়: ভীষণ ব্যাপার
খয়ের খাঁ: চাটুকার

গরু খোঁজা : তন্ন তন্ন করে খোঁজা
গোঁফ খেজুরে : নিতান্ত অলস
গরু মেরে জুতা দান : বড় ক্ষতি করে সামান্য ক্ষতিপূরণ
গোড়ায় গলদ : শুরুতে ভুল
গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল : প্রাপ্তির আগেই আয়োজন
গৌরচন্দ্রিকা : ভূমিকা
গা ঢাকা দেওয়া: আত্মগোপন
গৌরীসেনের টাকা: বেহিসাবী অর্থ
গুরু মারা বিদ্যা: যার কাছে শিক্ষা তারই উপর প্রয়োগ
গণেশ উল্টানো: উঠে যাওয়া, ফেল মারা
গোকুলের ষাঁড়: স্বেচ্ছাচারী লোক
গলগ্রহ: পরের বোঝা স্বরূপ থাকা
গোঁয়ার গোবিন্দ: নির্বোধ অথচ হঠকারী
গরিবের ঘোড়া রোগ: অবস্থার অতিরিক্ত অন্যায় ইচ্ছা
গোল্লায় যাওয়া: নষ্ট হওয়া, অধঃপাতে যাওয়া
গরমা গরম: টাটকা
গোবর গণেশ: মূর্খ
গরজ বড় বালাই: প্রয়োজনে গুরুত্ব
গোলক ধাঁধা : দিশেহারা
গায়ে কাঁটা দেওয়া : রোমাঞ্চিত হওয়া
গুড়ে বালি: আশায় নৈরাশ্য
গাছে তুলে মই কাড়া: সাহায্যের আশা দিয়ে সাহায্য না করা
গড্ডলিকা প্রবাহ : অন্ধ অনুকরণ
গায়ে ফুঁ দিয়ে বেড়ানো: কোনো দায়িত্ব গ্রহণ না করা
গদাই লস্করি চাল: অতি ধীর গতি, আলসেমি

ঘোড়া ডিঙিয়ে ঘাস খাওয়া: মধ্যবর্তীকে অতিক্রম করে কাজ করা
ঘর ভাঙানো: সংসার বিনষ্ট করা
ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো: নিজ খরচে পরের বেগার খাটা
ঘাটের মরা: অতি বৃদ্ধ
ঘটিরাম: আনাড়ি হাকিম
ঘোড়ার ঘাস কাটা: অকাজে সময় নষ্ট করা
ঘোড়ার ডিম: অবাস্তব
ঘোড়া রোগ: সাধ্যের অতিরিক্ত সাধ

চোখের মণি: প্রিয়
চিনির বলদ: ভারবাহী কিন্তু ফল লাভের অংশীদার নয়
চোখ কপালে তোলা: বিস্মিত হওয়া
চক্ষুলজ্জা: সংকোচ
চর্বিত চর্বণ: পুনরাবৃত্তি
চামচিকের লাথি: নগণ্য ব্যক্তির কটূক্তি
চোখ টাটানো: ঈর্ষা করা
চিনির পুতুল: শ্রমকাতর
চোখে ধুলো দেওয়া: প্রতারণা করা
চোখের বালি: চক্ষুশূল
চাঁদের হাট: আনন্দের প্রাচুর্য
চোখের পর্দা: লজ্জা
চুঁনোপুটি: নগণ্য
চোখের চামড়া: লজ্জা
চুলোয় যাওয়া: ধ্বংস
চুনকালি দেওয়া: কলঙ্ক
চক্ষুদান করা: চুরি করা
চশমখোর: চক্ষুলজ্জাহীন

ছুঁচো মেরে হাত গন্ধ করা: নগণ্য স্বার্থে দুর্নাম অর্জন
ছাই ফেলতে ভাঙা কুলা: সামান্য কাজের জন্য অপদার্থ ব্যক্তি
ছিনিমিনি খেলা: নষ্ট করা
ছিঁচ কাদুনে: অল্পই কাঁদে এমন
ছেলের হাতের মোয়া: সামান্য বস্তু
ছেলের হাতের মোয়া: সহজলভ্য বস্তু
ছ কড়া ন কড়া: সস্তা দর
ছক্কা পাঞ্জা: বড় বড় কথা বলা
ছা পোষা: অত্যন্ত গরিব

জিলাপির প্যাঁচ: কুটিলতা
জলে কুমির ডাঙায় বাঘ: উভয় সঙ্কট
জগাখিচুড়ি পাকানো: গোলমাল বাধানো

ঝিকে মেরে বউকে বোঝানো: একজনের মাধ্যমে দিয়ে অন্যজনকে শিক্ষাদান
ঝাঁকের কৈ: এক দলভুক্ত
ঝড়ো কাক: বিপর্যস্ত

টুপভুজঙ্গ: নেশায় বিভোর
টেকে গোঁজা: আত্মসাৎ করা
টাকার কুমির: ধনী ব্যক্তি
টনক নড়া: চৈতন্যোদয় হওয়া

ঠগ বাছতে গাঁ উজাড়: আদর্শহীনতার প্রাচুর্য
ঠেলার নাম বাবাজি: চাপে পড়ে কাবু
ঠাঁট বজায় রাখা: অভাব চাপা রাখা
ঠুঁটো জগন্নাথ: অকর্মণ্য
ঠোঁট কাটা: বেহায়া

ডান হাতের ব্যাপার: খাওয়া
ডাকের সুন্দরী: খুবই সুন্দরী
ডুমুরের ফুল: দুর্লভ বস্তু
ডামাডোল: গণ্ডগোল

ঢাকের বাঁয়া: অপ্রয়োজনীয়
ঢিমে তেতালা: মন্থর
ঢেঁকির কচকচি: বিরক্তিকর কথা
ঢাকের কাঠি: মোসাহেব, চাটুকার
ঢি ঢি পড়া: কলঙ্ক প্রচার হওয়া
ঢাক ঢাক গুড় গুড়: গোপন রাখার চেষ্টা

তিলকে তাল করা: বাড়িয়ে বলা
তুষের আগুন: দীর্ঘস্থায়ী ও দুঃসহ যন্ত্রণা
তুলা ধুনা করা: দুর্দশাগ্রস্ত করা
তালকানা: বেতাল হওয়া
তাসের ঘর: ক্ষণস্থায়ী
তামার বিষ: অর্থের কু প্রভাব
তালপাতার সেপাই: ক্ষীণজীবী
তীর্থের কাক: প্রতীক্ষারত
তুলসী বনের বাঘ: ভণ্ড

থরহরি কম্প: তির আতিশয্যে কাঁপা
থ বনে যাওয়া: স্তম্ভিত হওয়া

দু মুখো সাপ: দু জনকে দু রকম কথা বলে পরস্পরের মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টিকারী
দুধে ভাতে থাকা: খেয়ে-পড়ে সুখে থাকা
দিনকে রাত করা: সত্যকে মিথ্যা করা
দহরম মহরম: ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক
দাদ নেওয়া: প্রতিশোধ নেয়া
দুকান কাটা: বেহায়া
দা-কুমড়া: ভীষণ শত্রুতা
দেঁতো হাসি: কৃত্তিম হাসি
দুধের মাছি: সু সময়ের বন্ধু

ধরাকে সরা জ্ঞান করা: অহঙ্কারে সবকিছু তুচ্ছ মনে করা
ধরি মাছ না ছুঁই পানি: কৌশলে কার্যাদ্ধার
ধড়া-চূড়া: সাজপোশাক
ধর্মের ষাঁড়: যথেচ্ছাচারী
ধরাকে সরা জ্ঞান করা: সকলকে তুচ্ছ ভাবা
ধর্মের কল বাতাসে নড়ে: সত্য গোপন থাকে না

নেপোয় মারে দই: ধূর্ত লোকের ফল প্রাপ্তি
নগদ নারায়ণ: কাঁচা টাকা/ নগদ অর্থ
নামকাটা সেপাই: কর্মচ্যূত ব্যক্তি
ননীর পুতুল: শ্রমবিমুখ
নাটের গুরু: মূল নায়ক
নয় ছয়: অপচয়
নথ নাড়া: গর্ব করা
নিমক হারাম: অকৃতজ্ঞ
নিমরাজি: প্রায় রাজি
নেই আঁকড়া: একগুঁয়ে
নাড়ি নক্ষত্র: সব তথ্য

পরের ধনে পোদ্দারি: অন্যের অর্থের যথেচ্ছ ব্যয়
পরের মাথায় কাঁঠাল ভাঙা: অপরকে দিয়ে কাজ উদ্ধার
পগার পার: আয়ত্তের বাইরে পালিয়ে যাওয়া
পোঁ ধরা: অন্যকে দেখে একই কাজ করা
পাততাড়ি গুটানো: জিনিসপত্র গোটানো
পুরোনো কাসুন্দি ঘাঁটা: বড় রকমের চুরি
পুঁটি মাছের প্রাণ: যা সহজে মরে যায়
পটল তোলা: মারা যাওয়া
পুকুর চুরি: পুরোনো প্রসঙ্গে কটাক্ষ করা
পত্রপাঠ: অবিলম্বে/সঙ্গে সঙ্গে
পটের বিবি: সুসজ্জিত
পাখিপড়া করা: বার বার শেখানো
পায়াভারি: অহঙ্কার
পালের গোদা: দলপতি
পোয়া বারো: অতিরিক্ত সৌভাগ্য
পাকা ধানে মই: অনিষ্ট করা
প্রমাদ গোণা: ভীত হওয়া
পাথরে পাঁচ কিল: সৌভাগ্য

ফুলবাবু: বিলাসী
ফোড়ন দেওয়া: টিপ্পনী কাটা
ফেউ লাগা: আঠার মতো লেগে থাকা
ফুলের ঘাঁয়ে মূর্ছা যাওয়া: অল্পে কাতর
ফপর দালালি: অতিরিক্ত চালবাজি

বুদ্ধির ঢেঁকি: নিরেট মূর্খ
বাঁ হাতের ব্যাপার: ঘুষ গ্রহণ
ব্যাঙের আধুলি: সামান্য সম্পদ
বাঁধা গৎ: নির্দিষ্ট আচরণ
ব্যাঙের সর্দি: অসম্ভব ঘটনা
বাড়া ভাতে ছাই: অনিষ্ট করা
বগল বাজানো: আনন্দ প্রকাশ করা
বায়াত্তরে ধরা: বার্ধক্যের কারণে কাণ্ডজ্ঞানহীন
বজ্র আঁটুনি ফসকা গেরো: সহজে খুলে যায় এমন
বিদ্যার জাহাজ: অতিশয় পণ্ডিত
বসন্তের কোকিল: সুদিনের বন্ধু
বিশ বাঁও জলে: সাফল্যের অতীত
বিড়াল তপস্বী: ভণ্ড সাধু
বক ধার্মিক: ভণ্ড সাধু
বাজখাঁই গলা: অত্যন্ত কর্কশ ও উঁচু গলা
বইয়ের পোকা: খুব পড়ুয়া
বিনা মেঘে বজ্রপাত: আকস্মিক বিপদ
বর্ণচোরা আম: কপট ব্যক্তি
বাঘের দুধ: দুঃসাধ্য বস্তু
বরাক্ষরে: অলক্ষুণে
বাঘের চোখ: দুঃসাধ্য বস্তু
বাজারে কাটা: বিক্রি হওয়া
বিসমিল্লায় গলদ: শুরুতেই ভুল
বালির বাঁধ: অস্থায়ী বস্তু

ভাল্লুকের জ্বর: ক্ষণস্থায়ী জ্বর
ভূশন্ডির কাক: দীর্ঘজীবী
ভরাডুবি: সর্বনাশ
ভূতের ব্যাগার: অযথা শ্রম
ভাদ্র মাসের তিল: প্রচণ্ড কিল
ভূঁই ফোড়: হঠাৎ গজিয়ে ওঠা
ভানুমতীর খেল: অবিশ্বাস্য ব্যাপার
ভিজে বিড়াল: কপটাচারী
ভাঁড়ে ভবানী: নিঃস্ব অবস্থা
ভস্মে ঘি ঢালা: নিষ্ফল কাজ

মশা মারতে কামান দাগা: সামান্য কাজে বিরাট আয়োজন
মুখে ফুল চন্দন পড়া: শুভ সংবাদের জন্য ধন্যবাদ
মুখ চুন হওয়া: লজ্জায় ম্লান হওয়া
মেছো হাটা: তুচ্ছ বিষয়ে মুখরিত
মগের মুল্লুক: অরাজক দেশ
মাছের মায়ের পুত্রশোক: কপট বেদনাবোধ
মিছরির ছুরি: মুখে মধু অন্তরে বিষ
মুখে দুধের গন্ধ: অতি কম বয়স
মণিকাঞ্চন যোগ: উপযুক্ত মিলন
মুস্কিল আসান: নিষ্কৃতি
মন না মতি: অস্থির মানব মন
মেনি মুখো: লাজুক
মড়াকান্না: উচ্চকণ্ঠে শোক প্রকাশ
মাকাল ফল: অন্তঃসারশূণ্য

যক্ষের ধন: কৃপণের ধন
যমের অরুচি: যে সহজে মরে না

রাই কুড়িয়ে বেল: ক্ষুদ্র সঞ্চয়ে বৃহৎ
রুই-কাতলা: পদস্থ বা নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি
রাজা উজির মারা: আড়ম্বরপূর্ণ গালগল্প
রত্নপ্রসবিনী: সুযোগ্য সন্তানের মা
রাবণের গুষ্টি: বড় পরিবার
রাঘব বোয়াল: সর্বগ্রাসী ক্ষমতাবান ব্যক্তি
রায় বাঘিনী: উগ্র স্বভাবের নারী
রাবণের চিতা: চির অশান্তি
রাজ যোটক: উপযুক্ত মিলন
রাশভারি: গম্ভীর প্রকৃতির
রাহুর দশা: দুঃসময়

লেফাফা দুরস্ত: বাইরের ঠাট বজার রেখে চলেন যিনি
লগন চাঁদ: ভাগ্যবান
লাল বাতি জ্বালা: দেউলিয়া হওয়া
লাল পানি: মদ
লেজে গোবরে: বিশৃঙ্খলা
ললাটের লিখন: অমোঘ ভাগ্য
লাল হয়ে যাওয়া: ধনশালী হওয়া

শাঁখের করাত: দুই দিকেই বিপদ
শুয়ে শুয়ে লেজ নাড়া: আলস্যে সময় নষ্ট করা
শকুনি মামা: কুটিল ব্যক্তি
শিরে সংক্রান্তি: বিপদ মাথার ওপর
শাপে বর: অনিষ্টে ইষ্ট লাভ
শত্রুর মুখে ছাই: কুদৃষ্টি এড়ানো
শিঙে ফোঁকা: মরা
শ্রীঘর: কারাগার
শিবরাত্রির সলতে: একমাত্র সন্তান
শরতের শিশির: সুসময়ের বন্ধু
শিকায় ওঠা: স্থগিত


ষোল কলা: পুরোপুরি
ষোল আনা: পুরোপুরি
ষাঁড়ের গোবর: অযোগ্য


সবুরে মেওয়া ফলে: ধৈর্যসুফল মিলে
সাতেও নয়, পাঁচেও নয়: নির্লিপ্ত
সরফরাজি করা: অযোগ্য ব্যক্তির চালাকি
সাপের পাঁচ পা দেখা: অহঙ্কারী হওয়া
সাত খুন মাফ: অত্যধিক প্রশ্রয়
সোনায় সোহাগা: উপযুক্ত মিলন
সাত সতের: নানা রকমের
সাক্ষী গোপাল: নিষ্ক্রিয় দর্শক
সাপের ছুঁচো গেলা: অনিচ্ছায় বাধ্য হয়ে কাজ করা
সখাত সলিলে: ঘোর বিপদে পড়া
সেয়ানে সেয়ানে: চালাকে চালাকে
সব শেয়ালের এক রা: ঐকমত্য
সবে ধন নীলমণি: একমাত্র অবলম্বন


হাড় হদ্দ: নাড়ি নক্ষত্র/সব তথ্য
হস্তীমূর্খ: বুদ্ধিতে স্থূল
হালে পানি পাওয়া: সুবিধা করা
হাটে হাঁড়ি ভাঙা: গোপন কথা প্রকাশ করা
হাতের পাঁচ: শেষ সম্বল
হাতটান: চুরির অভ্যাস
হীরার ধার: অতি তীক্ষ্ণবুদ্ধি
হ য ব র ল: বিশৃঙ্খলা
হাড়ে দুর্বা গজানো: অত্যন্ত অলস হওয়া
হাড় হাভাতে: মন্দভাগ্য
হরি ঘোষের গোয়াল: বহু অপদার্থ ব্যক্তির সমাবেশ
হোমরা চোমরা: গণ্যমান্য ব্যক্তি
হাতুড়ে বদ্যি: আনাড়ি চিকিৎসক
হিতে বিপরীত: উল্টো ফল
হরিলুট: অপচয়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Popular posts:

google ad

Calender

September 2020
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930