প্রবৃত্তি বা নিঃসঙ্গতার চরিত্র (ছোট গল্প)

Published Date: Wednesday, January 1, 2020

এক. – প্রবৃত্তি বা নিঃসঙ্গতার চরিত্র

লেখকঃ Tonmoy Imran

খুব ঠাণ্ডা পড়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলছে একটু রাত করে বৃষ্টি হবে। এই ঠাণ্ডায় রাত জেগে চা খেতে খেতে পড়তে হবে গোয়েন্দা গল্প।

জেলা শহরে বই কিনতে গিয়েছিল সাইফুদ্দিন। একগাদা অনুবাদ বই কিনে ফিরেছে গ্রামে নিজের ডেরায়। তাদের বাড়িটা পুরো গ্রাম থেকে বিচ্ছিন্ন ফসলের ক্ষেত দিয়ে। সাইফুদ্দিন যখন সব ছেড়েছুড়ে গ্রামে চলে আসে তখন এ বাড়িটা ছিল কেয়ারটেকার রহিমুদ্দিন চাচার হাতে। বোন একটা আছে সাইফুদ্দিনের সুদূর প্রবাসে বহুদিন থেকে। বছর পাঁচেক আগে রহিমুদ্দিন নিজ থেকেই সব সাইফুদ্দিনকে বুঝিয়ে নদীর ওপারে নিজ গ্রামে ফিরে গেছে। ১৩ বছর প্রেম করে বিয়ে। সংসার টেকেনি আটমাসও। তারপর সব ছেড়েছুড়ে গ্রামে এসেছিল সাইফুদ্দিন। প্রথম প্রথম খারাপ লাগতো। পরে এইখানে তার বাল্যবন্ধু রাকিবুলের সাথে জমে যাওয়ায় বেশ ভালোই দিন কাটছিল। রাকিবুল নিজেও দীর্ঘদিন পর্তুগাল কাটিয়েছে। বুড়ো বয়সে এসে স্নিগ্ধাকে বিয়ে করেছে। অনিন্দ্য সুন্দরী, কিন্তু গরীব ঘরের মেয়ে। অবশ্য চল্লিশ বছর কি বুড়ো হওয়ার বয়স! বেশ টাকা পয়সার মালিক হওয়ায় রাকিবুলের স্নিগ্ধাকে পেতে সমস্যা হয়নি। রাকিবুলের দাবি তারা দুজন প্রেম করে বিয়ে করেছে। অথচ সাইফুদ্দিন জানে স্নিগ্ধা জীবনে একটি দিনের জন্যও রাকিবুলের প্রেমে পড়েনি। কীভাবে জানে? কেননা স্নিগ্ধার মধ্যে এমন কিছু একটা আছে, যা সাইফুদ্দিনের সাবেক স্ত্রীর মধ্যে ছিল। তাছাড়া রাকিবুল অসুস্থ হওয়ার পর এখন সন্ধ্যার একটু পরই ঘুমিয়ে যায়। স্নিগ্ধা চলে আসে তার বাড়িতে রাত গভীর হলে টিফিন ক্যারিয়ারের বাটি নিয়ে। সেখানে থাকে রাতের খাবারের সাথে অন্যকিছুর আহ্বান। সাইফুদ্দিনের বাড়িটা গ্রাম থেকে বিচ্ছিন্ন। রাকিবুলদের বাড়িটা গ্রামের শেষ প্রান্তে। এমনিতে একান্নবর্তী পরিবারে বিয়ের প্রথমদিকে থাকলেও স্নিগ্ধার কারণেই রাকিবুলকে আলাদা হতে হয়েছে। গ্রামের শেষপ্রান্তে নতুন দোতলা বাড়ি করতে হয়েছে।

ভালো চলছিল ওদের সংসার। সাইফুদ্দিন গ্রামে আসায় সব বদলে গেল। স্নিগ্ধা তার দিকে ধীরে ধীরে ঝুঁকতে শুরু করলো। কিন্তু কিসের আশায়? পরিস্থিতি আরেকবার ঘোলাটে হলো যখন ধরা পড়লো রাকিবুলের দুটো কিডনি নষ্ট। নিজের ভাই-বোনদের সাথে স্নিগ্ধার জন্য সম্পর্ক ছিন্ন। তাদের সাথে কিডনি ম্যাচ করলেও কে দিবে? টাকার প্রলোভনেও কেউ রাজি নয়। বরং তাদের শর্ত হচ্ছে রাকিবুলের ‘বাজে এবং বাঁজা’ মেয়ে স্নিগ্ধাকে ছাড়তে হবে। ওদিকে রকিবুল স্নিগ্ধা বলতে অজ্ঞান! সাইফুদ্দিন খুব সচেতনভাবে স্নিগ্ধার আহ্বান এড়িয়ে চলার চেষ্টা করলো। কেননা প্রথম বউ চলে যাওয়ার পর তার মনের মধ্যে একথা দৃঢ়ভাবে ঢুকে গেছে- সব সম্পর্কই শেষ পর্যন্ত একই রকম, শুরু থেকে শুরু করতে হয় এবং একদিন কাগজে পেন্সিলের লেখার মতো ফিকে হতে হতে শেষ হয়ে যায় । কখনো হয়তো কাগজটাই ছিঁড়ে যায়। সেটি হলে বরং রক্ষা। বাড়ি ফিরে বইগুলো মোটর সাইকেলের পেছন থেকে নামিয়ে ঘরে রাখলো সাইফুদ্দিন। স্নিগ্ধাকে আগেই বলেছিল শহর থেকে খেয়ে আসবে। আজ রাতে খাবার নিয়ে আসার দরকার নেই। স্নিগ্ধার কাছে ঘরের চাবি আছে যদিও। শোবার ঘরে ঢুকে চমকে উঠলো সাইফুদ্দিন। স্নিগ্ধা তার খাটের উপর। বসে মিটিমিটি হাসছে।

হোজ্জার গাধার পাছায় আগুন ( গল্প)

– আজ আর ছাড়বো না। (নিঃসঙ্গতার চরিত্র)

– স্নিগ্ধা পাগলামি করো না।

– উহু আজ ছাড়বো না। আজ আদর নিয়েই যাবো।

সাইফুদ্দিনের প্রচণ্ড মেজাজ বিগড়ে গেল। তারপর খেয়াল করলো- সে আসলে কামার্ত হয়ে পড়ছে। স্নিগ্ধার শরীরের যেসব জায়গায় তার নজর পড়ছে যেসব জায়গায় নজর এতোদিন পড়েনি। স্নিগ্ধা বলে উঠল- তুমি জানো এটা তোমার কাছে পাপ মনে হলেও আমার কাছে পাপ নয়। আমি বাচ্চা চাই। তার জন্য যা যা করা লাগবে আমি করবো।

– তুমি অন্য কাউকে বেছে নাও। প্লিজ আমি এটা পারবো না। আমার বন্ধু রাকিবুল।

– বন্ধুত্ব তো তুমি রক্ষা করছো, একটা কিডনি দান করবে বলে কথা দিয়ে।

– উহু তার বিনিময়ে তো ও আমাকে টাকা দিবে। ৩৫ লাখ। খুশিমনে বলেছে। তাছাড়া টাকাটা আমার দরকার। তুমি তো জানো জমিজাতি নিয়ে সমস্যা হওয়ায় গ্রামে যেভাবে চলার কথা ভেবেছিলাম তা ভেস্তে গেছে। আমার টাকা প্রায় ফুরিয়ে গেছে।

স্নিগ্ধা বেশ জোরেই হেসে উঠলো। তার বুকের ভাঁজ হাসির দমকে আরো গাঢ় হলো। নাহ নিজেকে ধরে রাখা কঠিন হচ্ছে সাইফুদ্দিনের। আগের চেয়ে নিস্তেজ গলায় বললো- হাসছো কেন?

– কিছু টাকা তুমি পাবে। বাকিটা সুস্থ হলে আর দিবে না। বরং সব বেঁচে টেচে আমাকে নিয়ে ইতালি চলে যাবে আবার।

-মানে? (নিঃসঙ্গতার চরিত্র)

– মানে সিম্পল। আমার একটা বাচ্চা চাই। তোমার বন্ধু তোমার সাথে প্রতারণা করার প্ল্যান করেছে। আচ্ছা তুমি কিডনি না দিলে কী হয়? আমার তো মনে হয় রাকিবুল বাঁচবে না!

– তুমি খুব যা তা বলছো।

– নাহ। খুব ঠান্ডা মাথায় বলছি। ও আশা করছে বাঁচবে। আমার ধারণা মাসখানেকের মধ্যেই মারা যাবে। তোমাদের কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট করার কথা ১৫ দিন পর। ট্রান্সপ্লান্টের পর যদি মারা যায় ভাবো তো কতবড় লস!

– মানে?

– মানে আর কি কিডনিও হারালে, টাকাও। আর জানো তো ওর সব সম্পত্তি আমার নামে লিখে দেওয়া। তারচে বরং মারা যেতে দাও না।

বিছানা থেকে উঠে খুব কাছে চলে আসে স্নিগ্ধা। সাইফুদ্দিন তার কোমর পেচিয়ে ধরে। কিংবা সাইফুদ্দিন নয় তার ভেতরে লুকিয়ে থাকা অচেনা কেউ। সেই অচেনা কেউটা বলে উঠে- স্নিগ্ধার কথা একদম ঠিক। টিনের চালে ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি পড়তে শুরু করে। পাশের ঘরে অ্যাডভেঞ্চার আর গোয়েন্দা উপন্যাসের বইগুলো অপেক্ষা করতে থাকে। কিন্তু কোমর পেচিয়ে ধরা পর্যন্তই। দুটো চুমো কি দিয়েছিল সাইফুদ্দিন! হাত দিয়ে ঠেলে সরিয়ে দিয়েছিল স্নিগ্ধাকে।

স্নিগ্ধা একটা হাসি দিয়ে বলেছিল- আমি বারবার আসবো।

তারপর বাড়ি থেকে বেরিয়ে হাঁটা ধরেছিল নিজের বাড়ির দিকে। মেয়েটার কোনো ভয়ডর নাই। ঠাণ্ডা নাই। ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টির মধ্যেই ফিরে যাচ্ছে। মাথায় চাদর দিয়ে ঘোমটা দেওয়া। সাইফুদ্দিন জানালা দিয়ে স্নিগ্ধার ভিজতে ভিজতে যাওয়া দেখে। ভাবে- একটা বাচ্চাই তো চেয়েছিল মেয়েটা! নাকি বাচ্চার খোলসে নিজের কাম তৃষ্ণা মেটাতে চেয়েছিল! আচ্ছা রাকিবুল কি সত্যি তাকে প্রতারণা করতে চায়? কেন চায়? সেতো টাকা না পেলেও হয়তো কিডনি ডোনেট করতো।

গল্প- দুই নিঃসঙ্গতার চরিত্র

বেশ দেরি করে ঘুম ভাঙে সাইফুদ্দিনের। অনেকগুলো মিসড কল স্নিগ্ধার মোবাইল থেকে। সে ব্যাক করাতে ধরলো একটি পুরুষকণ্ঠ। সম্ভবত রাকিবুলের ভাই। জানালো- রাকিবুল রাতেই মারা গেছে। দুইটার দিকে। সকালে সবাই টের পেয়েছে। তড়িঘড়ি করে রাকিবুলের বাড়িতে গেল সাইফুদ্দিন। প্রচুর লোক। এর মধ্যে বেশ কয়েকজনকে আহাজারি করতে শুনলো- আহারে বউটা নাকি মাত্র ১ মাসের পোয়াতি! তবে কি মিথ্যে বলেছিল স্নিগ্ধা? রাকিবুল কি সন্তান জন্ম দানে সক্ষম ছিল? নাকি এ অন্যকারও বাচ্চা? তবে কী তাকে এই বাচ্চার বাপ হতে বাধ্য করার জন্যই এতোকিছু? সব গুবলেট পাকিয়ে যায়। উত্তর পায় দুদিন পর। সাইফুদ্দিনকে ফোনে জানায় স্নিগ্ধা। ডাক্তার নাকি শুরু থেকেই রাকিবুলের ব্যাপারে একটা অন্য সন্দেহও করছিল।

শেষবার চেকাপ এর পর স্নিগ্ধাকে বলেছিল- রাকিবুলের কিডনি কেবল নষ্ট তা নয়। সেখানে খুব ছোট একটা পাথর থেকে ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়েছে। বড়জোর মাস খানেক বাঁচবে। কিডনি ট্রান্সপ্লান্টের মানে হয় না। রাকিবুলের রেখে যাওয়া সম্পত্তি যদিও স্নিগ্ধার নামেই লেখা তবুও জবরদখল এড়াতে আর গ্রামের মানুষের সিম্প্যাথি পেতেই প্রেগ্ন্যান্ট হওয়ার নাটক। আর প্রেগন্যান্সির খবর মাসখানেক আগে রাকিবুলকেই বলেছিল। কেননা স্ত্রীর জন্য পুরো সম্পত্তি লিখতে গড়িমসি করলেও নিজের অনাগত সন্তানের কথা ভেবে সব স্নিগ্ধার নামে লিখে দিয়েছিল রাকিবুল।

সাইফুদ্দিন অবশ্য এসবের কোনো কিছুই বিশ্বাস করলো না। তারপরও স্নিগ্ধাকে কয়েকরাত পরে সে নিবিড়ভাবে নিজের ভেতর ঢুকিয়ে নিল। ক্ষুধা তো তারও আছে। সেটা আপাতত মিটলে ক্ষতি কি!

নিঃসঙ্গতার চরিত্র বড্ড ঘোলাটে, সামাজিক বিচারে খুব অনৈতিক হয় বৈকি!

(গল্প আছে। উহারা থাকবে, আমার সাথেই মৃত্যুর আগ পর্যন্ত।)
খুব ঠাণ্ডা পড়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলছে একটু রাত করে বৃষ্টি হবে। এই ঠাণ্ডায় রাত জেগে চা খেতে খেতে পড়তে হবে গোয়েন্দা গল্প।

জেলা শহরে বই কিনতে গিয়েছিল সাইফুদ্দিন। একগাদা অনুবাদ বই কিনে ফিরেছে গ্রামে নিজের ডেরায়। তাদের বাড়িটা পুরো গ্রাম থেকে বিচ্ছিন্ন ফসলের ক্ষেত দিয়ে। সাইফুদ্দিন যখন সব ছেড়েছুড়ে গ্রামে চলে আসে তখন এ বাড়িটা ছিল কেয়ারটেকার রহিমুদ্দিন চাচার হাতে। বোন একটা আছে সাইফুদ্দিনের সুদূর প্রবাসে বহুদিন থেকে। বছর পাঁচেক আগে রহিমুদ্দিন নিজ থেকেই সব সাইফুদ্দিনকে বুঝিয়ে নদীর ওপারে নিজ গ্রামে ফিরে গেছে। ১৩ বছর প্রেম করে বিয়ে। সংসার টেকেনি আটমাসও। তারপর সব ছেড়েছুড়ে গ্রামে এসেছিল সাইফুদ্দিন। প্রথম প্রথম খারাপ লাগতো। পরে এইখানে তার বাল্যবন্ধু রাকিবুলের সাথে জমে যাওয়ায় বেশ ভালোই দিন কাটছিল। রাকিবুল নিজেও দীর্ঘদিন পর্তুগাল কাটিয়েছে। বুড়ো বয়সে এসে স্নিগ্ধাকে বিয়ে করেছে। অনিন্দ্য সুন্দরী, কিন্তু গরীব ঘরের মেয়ে। অবশ্য চল্লিশ বছর কি বুড়ো হওয়ার বয়স! বেশ টাকা পয়সার মালিক হওয়ায় রাকিবুলের স্নিগ্ধাকে পেতে সমস্যা হয়নি। রাকিবুলের দাবি তারা দুজন প্রেম করে বিয়ে করেছে। অথচ সাইফুদ্দিন জানে স্নিগ্ধা জীবনে একটি দিনের জন্যও রাকিবুলের প্রেমে পড়েনি। কীভাবে জানে? কেননা স্নিগ্ধার মধ্যে এমন কিছু একটা আছে, যা সাইফুদ্দিনের সাবেক স্ত্রীর মধ্যে ছিল। তাছাড়া রাকিবুল অসুস্থ হওয়ার পর এখন সন্ধ্যার একটু পরই ঘুমিয়ে যায়। স্নিগ্ধা চলে আসে তার বাড়িতে রাত গভীর হলে টিফিন ক্যারিয়ারের বাটি নিয়ে। সেখানে থাকে রাতের খাবারের সাথে অন্যকিছুর আহ্বান। সাইফুদ্দিনের বাড়িটা গ্রাম থেকে বিচ্ছিন্ন। রাকিবুলদের বাড়িটা গ্রামের শেষ প্রান্তে। এমনিতে একান্নবর্তী পরিবারে বিয়ের প্রথমদিকে থাকলেও স্নিগ্ধার কারণেই রাকিবুলকে আলাদা হতে হয়েছে। গ্রামের শেষপ্রান্তে নতুন দোতলা বাড়ি করতে হয়েছে।

ভালো চলছিল ওদের সংসার। সাইফুদ্দিন গ্রামে আসায় সব বদলে গেল। স্নিগ্ধা তার দিকে ধীরে ধীরে ঝুঁকতে শুরু করলো। কিন্তু কিসের আশায়? পরিস্থিতি আরেকবার ঘোলাটে হলো যখন ধরা পড়লো রাকিবুলের দুটো কিডনি নষ্ট। নিজের ভাই-বোনদের সাথে স্নিগ্ধার জন্য সম্পর্ক ছিন্ন। তাদের সাথে কিডনি ম্যাচ করলেও কে দিবে? টাকার প্রলোভনেও কেউ রাজি নয়। বরং তাদের শর্ত হচ্ছে রাকিবুলের ‘বাজে এবং বাঁজা’ মেয়ে স্নিগ্ধাকে ছাড়তে হবে। ওদিকে রকিবুল স্নিগ্ধা বলতে অজ্ঞান! সাইফুদ্দিন খুব সচেতনভাবে স্নিগ্ধার আহ্বান এড়িয়ে চলার চেষ্টা করলো। কেননা প্রথম বউ চলে যাওয়ার পর তার মনের মধ্যে একথা দৃঢ়ভাবে ঢুকে গেছে- সব সম্পর্কই শেষ পর্যন্ত একই রকম, শুরু থেকে শুরু করতে হয় এবং একদিন কাগজে পেন্সিলের লেখার মতো ফিকে হতে হতে শেষ হয়ে যায় । কখনো হয়তো কাগজটাই ছিঁড়ে যায়। সেটি হলে বরং রক্ষা। বাড়ি ফিরে বইগুলো মোটর সাইকেলের পেছন থেকে নামিয়ে ঘরে রাখলো সাইফুদ্দিন। স্নিগ্ধাকে আগেই বলেছিল শহর থেকে খেয়ে আসবে। আজ রাতে খাবার নিয়ে আসার দরকার নেই। স্নিগ্ধার কাছে ঘরের চাবি আছে যদিও। শোবার ঘরে ঢুকে চমকে উঠলো সাইফুদ্দিন। স্নিগ্ধা তার খাটের উপর। বসে মিটিমিটি হাসছে।

– আজ আর ছাড়বো না।

– স্নিগ্ধা পাগলামি করো না।

– উহু আজ ছাড়বো না। আজ আদর নিয়েই যাবো।

সাইফুদ্দিনের প্রচণ্ড মেজাজ বিগড়ে গেল। তারপর খেয়াল করলো- সে আসলে কামার্ত হয়ে পড়ছে। স্নিগ্ধার শরীরের যেসব জায়গায় তার নজর পড়ছে যেসব জায়গায় নজর এতোদিন পড়েনি। স্নিগ্ধা বলে উঠল- তুমি জানো এটা তোমার কাছে পাপ মনে হলেও আমার কাছে পাপ নয়। আমি বাচ্চা চাই। তার জন্য যা যা করা লাগবে আমি করবো।

– তুমি অন্য কাউকে বেছে নাও। প্লিজ আমি এটা পারবো না। আমার বন্ধু রাকিবুল।

– বন্ধুত্ব তো তুমি রক্ষা করছো, একটা কিডনি দান করবে বলে কথা দিয়ে।

– উহু তার বিনিময়ে তো ও আমাকে টাকা দিবে। ৩৫ লাখ। খুশিমনে বলেছে। তাছাড়া টাকাটা আমার দরকার। তুমি তো জানো জমিজাতি নিয়ে সমস্যা হওয়ায় গ্রামে যেভাবে চলার কথা ভেবেছিলাম তা ভেস্তে গেছে। আমার টাকা প্রায় ফুরিয়ে গেছে।

স্নিগ্ধা বেশ জোরেই হেসে উঠলো। তার বুকের ভাঁজ হাসির দমকে আরো গাঢ় হলো। নাহ নিজেকে ধরে রাখা কঠিন হচ্ছে সাইফুদ্দিনের। আগের চেয়ে নিস্তেজ গলায় বললো- হাসছো কেন?

– কিছু টাকা তুমি পাবে। বাকিটা সুস্থ হলে আর দিবে না। বরং সব বেঁচে টেচে আমাকে নিয়ে ইতালি চলে যাবে আবার।

-মানে?

প্রস্রাবে শুরু হলো নতুন বছর (গল্প)

– মানে সিম্পল। আমার একটা বাচ্চা চাই। তোমার বন্ধু তোমার সাথে প্রতারণা করার প্ল্যান করেছে। আচ্ছা তুমি কিডনি না দিলে কী হয়? আমার তো মনে হয় রাকিবুল বাঁচবে না!

– তুমি খুব যা তা বলছো।

– নাহ। খুব ঠান্ডা মাথায় বলছি। ও আশা করছে বাঁচবে। আমার ধারণা মাসখানেকের মধ্যেই মারা যাবে। তোমাদের কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট করার কথা ১৫ দিন পর। ট্রান্সপ্লান্টের পর যদি মারা যায় ভাবো তো কতবড় লস!

– মানে?

– মানে আর কি কিডনিও হারালে, টাকাও। আর জানো তো ওর সব সম্পত্তি আমার নামে লিখে দেওয়া। তারচে বরং মারা যেতে দাও না।

বিছানা থেকে উঠে খুব কাছে চলে আসে স্নিগ্ধা। সাইফুদ্দিন তার কোমর পেচিয়ে ধরে। কিংবা সাইফুদ্দিন নয় তার ভেতরে লুকিয়ে থাকা অচেনা কেউ। সেই অচেনা কেউটা বলে উঠে- স্নিগ্ধার কথা একদম ঠিক। টিনের চালে ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি পড়তে শুরু করে। পাশের ঘরে অ্যাডভেঞ্চার আর গোয়েন্দা উপন্যাসের বইগুলো অপেক্ষা করতে থাকে। কিন্তু কোমর পেচিয়ে ধরা পর্যন্তই। দুটো চুমো কি দিয়েছিল সাইফুদ্দিন! হাত দিয়ে ঠেলে সরিয়ে দিয়েছিল স্নিগ্ধাকে।

স্নিগ্ধা একটা হাসি দিয়ে বলেছিল- আমি বারবার আসবো।

তারপর বাড়ি থেকে বেরিয়ে হাঁটা ধরেছিল নিজের বাড়ির দিকে। মেয়েটার কোনো ভয়ডর নাই। ঠাণ্ডা নাই। ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টির মধ্যেই ফিরে যাচ্ছে। মাথায় চাদর দিয়ে ঘোমটা দেওয়া। সাইফুদ্দিন জানালা দিয়ে স্নিগ্ধার ভিজতে ভিজতে যাওয়া দেখে। ভাবে- একটা বাচ্চাই তো চেয়েছিল মেয়েটা! নাকি বাচ্চার খোলসে নিজের কাম তৃষ্ণা মেটাতে চেয়েছিল! আচ্ছা রাকিবুল কি সত্যি তাকে প্রতারণা করতে চায়? কেন চায়? সেতো টাকা না পেলেও হয়তো কিডনি ডোনেট করতো।

দুই.

বেশ দেরি করে ঘুম ভাঙে সাইফুদ্দিনের। অনেকগুলো মিসড কল স্নিগ্ধার মোবাইল থেকে। সে ব্যাক করাতে ধরলো একটি পুরুষকণ্ঠ। সম্ভবত রাকিবুলের ভাই। জানালো- রাকিবুল রাতেই মারা গেছে। দুইটার দিকে। সকালে সবাই টের পেয়েছে। তড়িঘড়ি করে রাকিবুলের বাড়িতে গেল সাইফুদ্দিন। প্রচুর লোক। এর মধ্যে বেশ কয়েকজনকে আহাজারি করতে শুনলো- আহারে বউটা নাকি মাত্র ১ মাসের পোয়াতি! তবে কি মিথ্যে বলেছিল স্নিগ্ধা? রাকিবুল কি সন্তান জন্ম দানে সক্ষম ছিল? নাকি এ অন্যকারও বাচ্চা? তবে কী তাকে এই বাচ্চার বাপ হতে বাধ্য করার জন্যই এতোকিছু? সব গুবলেট পাকিয়ে যায়। উত্তর পায় দুদিন পর। সাইফুদ্দিনকে ফোনে জানায় স্নিগ্ধা। ডাক্তার নাকি শুরু থেকেই রাকিবুলের ব্যাপারে একটা অন্য সন্দেহও করছিল।

শেষবার চেকাপ এর পর স্নিগ্ধাকে বলেছিল- রাকিবুলের কিডনি কেবল নষ্ট তা নয়। সেখানে খুব ছোট একটা পাথর থেকে ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়েছে। বড়জোর মাস খানেক বাঁচবে। কিডনি ট্রান্সপ্লান্টের মানে হয় না। রাকিবুলের রেখে যাওয়া সম্পত্তি যদিও স্নিগ্ধার নামেই লেখা তবুও জবরদখল এড়াতে আর গ্রামের মানুষের সিম্প্যাথি পেতেই প্রেগ্ন্যান্ট হওয়ার নাটক। আর প্রেগন্যান্সির খবর মাসখানেক আগে রাকিবুলকেই বলেছিল। কেননা স্ত্রীর জন্য পুরো সম্পত্তি লিখতে গড়িমসি করলেও নিজের অনাগত সন্তানের কথা ভেবে সব স্নিগ্ধার নামে লিখে দিয়েছিল রাকিবুল।

সাইফুদ্দিন অবশ্য এসবের কোনো কিছুই বিশ্বাস করলো না। তারপরও স্নিগ্ধাকে কয়েকরাত পরে সে নিবিড়ভাবে নিজের ভেতর ঢুকিয়ে নিল। ক্ষুধা তো তারও আছে। সেটা আপাতত মিটলে ক্ষতি কি!

নিঃসঙ্গতার চরিত্র বড্ড ঘোলাটে, সামাজিক বিচারে খুব অনৈতিক হয় বৈকি!

(গল্প আছে। উহারা থাকবে, আমার সাথেই মৃত্যুর আগ পর্যন্ত।)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Popular posts:

google ad

Calender

November 2020
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
30