ভারতে না গিয়ে ঘুরে আসুন বাংলাদেশের তাজমহল থেকে

Published Date: Wednesday, January 15, 2020

মনে হলো তাজমহল ঘুরে দেখার। কিন্তু তাজমহলতো সেই ভারতের আগ্রাতে। এত টাকা খরচ করে তাজমহল দেখতে যাবেন। চিন্তায় পড়ে গেলেন। কিন্তু না আপনাকে এত চিন্তা করতে হবে না। কেননা আপনি চাইলে বাংলাদেশেই তাজমহল দেখতে পারবেন । কিভাবে ? সেই গল্পটাই আজকে করবো। আজ আপনাদের বলবো বাংলাদেশের তাজমহলের কথা।

ছুটির দিন,ঘুরাঘুরির প্ল্যান নিশ্চয় করছেন! ভাবছেন দূরে যাবেন নাকি কাছে যাবেন ? পরিবার নিয়ে দূরের পথ পাড়ি দেওয়া বেশ কঠিন। কিন্তু তারপরও তো ঘুরতে যেতে মন চায়! তাই সময় করে ঘুরে আসুন সোনারগাঁও পেরিয়ে বাংলার তাজমহল থেকে।

পৃথিবীর প্রাচীন সপ্তাশ্চর্যের মধ্যে অন্যতম ভারতের আগ্রার তাজমহলের মত করে বাংলাদেশের নারায়াণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলার পেরাব গ্রামে নির্মাণ করা হয়েছে বাংলার তাজমহল বা দ্বিতীয় তাজমহল। নারায়ণগঞ্জের শিল্পপতি চলচ্চিত্রকার আহসান উল্লাহ মনি এই তাজমহল তৈরী করেন। ২০০৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে তাজমহলের নির্মাণ কাজ শুরু হয় এবং ২০০৮ সালের ডিসেম্বর মাসে এটি সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেয়া হয়। বাংলার তাজমহল নির্মাণে আসল তাজমহলের সাথে সর্বোচ্চ মিল রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।

তাজমহলের প্রধান ভবন দামি স্বচ্ছ পাথরে মোড়ানো। আগ্রার তাজমহলের মতই মূল ভবনের চার কোণে চারটি বড় মিনার রয়েছে। আর ভবনের সামনে রয়েছে পানির ফোয়ারা, ফুলের বাগান এবং দর্শনার্থীদের বসার স্থান।

সোনারগাঁয়ে হাস্যকর পিরামিড নাকি ভিন্ন কিছু!

এটি প্রায় ১৮ বিঘা জমির উপর অবস্থিত। আশেপাশে আরও ৫২ বিঘা জমি আছে পর্যটনের জন্য। এখানে দেখা যাবে চারপাশের সুন্দর আর মনোরম পরিবেশ, হাজার হাজার নাম না জানা পাখির কিচিরমিচির করা বিকেল আপনার মন ভালো করে দিবে। তাজমহলের নির্মাণ কাজের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে বিদেশী উপকরণ যেমন ১৭২টি কৃত্রিম ডায়মন্ড, ব্যবহার করা হয়েছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। নির্মাণ কাজে ৬ জন টেকনিশিয়ানদের নিয়োগ দেওয়া হয়। ভারতের তাজমহলকে অনুসরণ করা হয়েছে বলে নির্মাতাকে ভারতে যেতে হয়েছে অনেকবার।

প্রাচীন শহর পানাম নগর থেকে ঘুরে আসুন

বাংলার তাজমহলে আছে রাজমনি ফিল্ম সিটি স্টুডিও এবং রাজমনি ফিল্ম সিটি রেস্তোরাঁ, যেখানে যেকোন দর্শনার্থী চাইলে ছবি তুলতে পারেন। বাংলার তাজমহলের কাছেই নির্মাণ করা হয়েছে মিসরের পিরামিডের প্রতিরূপ, ২৫০ আসনবিশিষ্ট সিনেমা হল এবং সেমিনার কক্ষ। সাথে শুটিং বাড়ি, মিনি চিড়িয়াখানা আর লাল কলা গাছ। এছাড়াও তাজমহলকে ঘিরে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন হস্তশিল্প সামগ্রী, জামদানি শাড়ি, মাটির গহনাসহ আরও বিভিন্ন পণ্য সামগ্রীর দোকান।

সময়সূচী ও টিকেট মূল্য
বাংলার তাজমহল প্রতিদিন সকাল ১০ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত খোলা থাকে। তাজমহল এবং পিরামিডের প্রবেশ মূল্য একসাথে পরিশোধ করতে হয়, শুধুমাত্র তাজমহল বা পিরামিড দেখার সুযোগ নেই। জনপ্রতি প্রবেশ টিকেটের মূল্য ১৫০ টাকা।

কিভাবে যাবেন:
ঢাকা থেকে বাংলার তাজমহলের দূরত্ব মাত্র ৩০ কিলোমিটার। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে যাওয়া কুমিল্লা, দাউদকান্দি অথবা সোনারগাঁগামী বাসে চড়ে মদনপুর বাসস্ট্যান্ডে এসে সেখান থেকে সিএনজি বা অটোরিক্সায় জনপ্রতি ২৫ থেকে ৩০ টাকা ভাড়ায় তাজমহল দেখতে যাওয়া যায়।

এছাড়া ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দিয়ে ভৈরব,নরসিংদী কিংবা কিশোরগঞ্জগামী বাসে বরপা বাসস্ট্যান্ডে নেমে সিএনজিতে করে বাংলার তাজমহল দেখতে যেতে পারবেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Popular posts:

google ad

Calender

November 2020
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
30