প্রস্রাবে শুরু হলো নতুন বছর (গল্প)

Published Date: Wednesday, January 1, 2020

নতুন বছরের প্রথমদিন মোখলেসুর রহমানের ঘুম ভাঙলো ভোর রাতে। ভয়ংকর একটা ঘটনা ঘটার মধ্য দিয়ে। তিনি বিছানায় প্রস্রাব করে দিয়েছেন! প্রথম প্রথম ভেবেছিলেন পাশে শুয়ে থাকা বাচ্চাটা হয়তো করেছে, পরে দেখলেন নিজেই! বউকে সবকিছু দেখানো যায়, বলা যায়, এমনকি তার সামনে ঠাস করে পাদও মারা যায়, কিন্তু বিছানায় প্রস্রাব করার কথা কোনোভাবেই বলা যায় না। মোখলেসের বিছানাটা বড়৷ তার ও স্ত্রীর মাঝখানে পাঁচ বছরের পুত্র জিয়ান ঘুমায়। মোখলেস দেখলেন উপায় নেই- জিয়ানের উপর দিয়েই দোষ চাপাতে হবে। ৩৬ বছর বয়সে তিনি বিছানায় ঘুমের মধ্যে মুতে দিয়েছেন, এ ব্যাপারটা কোনোভাবেই কাউকে বলা যাবে না!

সেদিন তিনি জিয়ানের উপর দিয়ে গোটা ঘটনা চালিয়ে দিলেন। বছরের প্রথমদিন জিয়ানের কাটলো মায়ের গালমন্দ খেতে খেতে। মোখলেসের স্ত্রী শীলা তাকে বললেন- ছেলের বিছানা আলাদা করার সময় এসেছে। মোখলেসই এতোদিন শীলাকে বলে আসছিলেন- জিয়ানকে আলাদা বিছানায় দেওয়ার কথা। এবার শীলার কথার প্রতিবাদ করে বললেন- আহা একদিনই তো করেছে। হতেই পারে! আমি তো শুনেছি অনেক বড় মানুষও করে এমন! শীলা বললেন- কে করেছে শুনি? অসুস্থ ছিলেন বোধ হয়। বড় মানুষের পেচ্ছাবের যা গন্ধ। অসুস্থ না হলে যে করেছে তার বউ নিশ্চয়ই তাকে ঝেঁটিয়েছে ইচ্ছামত! আমি হলে তো তাই করতাম। মোখলেস চুপ মেরে যান। সেদিনটা কোনমতো কাটে। পরের রাতে আবার একই ঘটনা। এবারও দোষ পড়ে জিয়ানের ঘাড়ে। দ্বিতীয়রাতে একই ঘটনা ঘটার পর শীলা ডিটারমাইন্ড পুত্র জিয়ানকে আলাদা করে দিবেন। সাথে ওয়ালক্লথ। চাদর, তোষক পরপর দুদিন ধোওয়ার পর বাসার কাজের ছুটা বুয়ার আচরণ পরিবর্তন হয়ে গেছে। দ্বিতীয় রাতে বিছানায় প্রস্রাব করার পর মোখলেসের নিজের উপর ঘেন্না হতে থাকে। এইদেশে রাস্তায় লিঙ্গ বের করে প্রস্রাব করা নিয়ে লোকে হাসে না, কিন্তু বেডরুমে নিজের বিছানায় প্রস্রাব করা কেউ মেনে নিবে না। মোখলেসের খারাপ লাগার বিষয়টা অবশ্য ভিন্ন। তার কারণে পুত্র জিয়ানকে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। জিয়ান বেচারা বিনাদোষে গাল খাচ্ছে আর মুখ গোমড়া করে ঘুরছে।

তৃতীয়দিন শীলা ছুটা বুয়ার পরামর্শে হুজুর ডাকিয়ে জিয়ানের কোমরে কাইতন দিয়ে তাবিজ ঝুলিয়ে দিলেন। আর সে রাতে অনুতপ্ত হয়ে মোখলেস জেগেই কাটালেন। ঘুমিয়ে পড়লেই যদি আবার প্রস্রাব হয়ে যায়! তাবিজের গুণ আছে কিনা তা পরীক্ষা করা গেল না। তাবিজ পড়েছে ভুল মানুষের কোমরে। দুইদিন না ঘুমিয়ে কাটানোর পর মোখলেস দেখলেন এভাবে সম্ভব নয়। আচ্ছা একরাতে ঘুমিয়েই দেখা যাক। যেই ঘুমালেন ওম্নি বিছানা ভিজলো। শীলা খুব চিন্তিত হয়ে পড়লেন। ছেলেটাকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে বলে মোখলেসকে খোঁচাতে লাগলেন। মোখলেস বললেন- অফিসে একটু ব্যস্ততা আছে। তিন-চারদিন পর একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ঠিক করে যাবেন।

হোজ্জার গাধার পাছায় আগুন ( গল্প)

মোখলেসের অফিস কলিগ এক পীরের মুরীদ। পীর সাহেব নাকি বেশ জাগ্রত, গরম। মোখলেস তার কাছে গেলেন৷ কলিগকে সমস্যার কথা না বলে তাকে নিয়েই পীরের কাছে গেলেন। পীরের সিস্টেম ভালো। যার সমস্যা তাকে নিয়েই বসেন। বাকিদের বাইরে যেতে বলা হয়। কাজেই মোখলেস তাকে সমস্যা খুলে বলতে পারলেন৷ পীরের তাবিজ নিয়ে শান্তিমত ঘুমাতে গিয়েছিলেন মোখলেস। তারপর ভোররাতে প্রস্রাবের পুনরাবৃত্তি। আবার পুত্রকে ফাঁসানো। কিন্তু এবার আর পুত্র ফাঁসিয়ে লাভ হলো না। পুত্রকে আলাদা করে দিলেন শীলা। ফলে রাত জেগে কাটানো শুরু করলেন মোখলেস। অফিসে ঝিমান। মেজাজ খিটখিটে হয়ে গেল। এই অবস্থায় ইন্টারনেট ঘাঁটতে ঘাঁটতে তার মাথায় এলো- একজন সাইকোলিস্টের কাছে যেতে হবে। স্বপ্নে কিছু একটা দেখছেন। কোনো বদ জিন নয়, বরং স্বপ্ন তাকে বিছানায় প্রস্রাব করাচ্ছে! জানুয়ারির প্রথম দিন থেকে রাতে প্রস্রাব শুরু। ৩১ ডিসেম্বর দেখা হয়েছিল রবিন আর ঝুমকোর সাথে। অনেকদিন পর সুইডেন থেকে এসেছিলেন তারা। আড্ডা হয়েছে রাত ১১টা অবধি। পুরনো দিনের কত আলাপ যে সেদিন তারা পেরেছিল। কলেজ জীবনে ঝুমকো থাকতো তেজকুনি পাড়ার এক মহিলা হোস্টেলে। সেখানে বিকাল থেকে রবিন আর মোখলেস রাত ৮টা পর্যন্ত আড্ডা দিত। তেঁজগাও কলেজে পড়তো তিনজনেই। ঝুম আড্ডার পর ঝুমকো হোস্টেলে ফিরে যেত। এরপর রবিন আর মোখলেস দীর্ঘক্ষণ জমা রাখা মূত্র ত্যাগ করতে যেত ফার্মগেইটের পাব্লিক টয়লেটে। তারপর যে যার ডেরায় ফিরত।

সাইকোলোজিস্টের কাছে নিয়মিত থেরাপিতে মোখলেস বুঝতে পারলেন- তার সেরা সময়টা ওটাই ছিল। ইচ্ছামতো আড্ডা মেরে পাব্লিক টয়লেটে মুতে বাড়ি ফেরার দিনগুলো। রবিন আর ঝুমকোর সাথে দীর্ঘদিন পর দেখা হওয়ায় তার অবচেতন মন সুন্দর সেই দিনগুলোকে স্বপ্ন দেখাচ্ছে। আর সেই সুখ স্বপ্ন শেষ হচ্ছে মূত্র বিসর্জনের মধ্য দিয়ে!

লেখক: Tonmoy Imran, Senior Sub Editor at Bdnews24

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Popular posts:

google ad

Calender

February 2021
MTWTFSS
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728